ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায়
Nagad desktop

‘পারভেজ তুরা হডে, আঁরা গারিত্তুন লামিন নপারির’

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১১:৫০ এএম
আপডেট: ১৫ মে ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
‘পারভেজ তুরা হডে, আঁরা  গারিত্তুন লামিন নপারির’
ওমানে একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরের রাঙ্গুনীয়ার গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের ভিড়। ছবি- খবরের কাগজ

‘পারভেজ তুরা হডে, এক্কেনা এডে আই। আঁরা চারওজন গারিত্তুন লামিন নপারির।’ যার অর্থ হলো পারভেজ তোমরা কোথায়। একটু এখানে আসো। আমরা চারজনের কেউই গাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। পারভেজ নামে প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের কাছে প্রাণ রক্ষার আর্তি জানিয়ে ২৪ সেকেন্ডের একটি অডিও বার্তা পাঠান নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট শাহেদুল ইসলাম। এটি ছিল তাদের সর্বশেষ কথা। কিন্তু ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর সেই চাচাতো ভাই কলব্যাক করলেও চারজনের একজনও আর ফোন রিসিভ করেননি। ততক্ষণে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। 

ওমানে একটি গাড়ির ভেতর আপন চার ভাইয়ের একসঙ্গে মর্মান্তিক মৃত্যুর রহস্য এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে সে দেশের পুলিশ প্রাথমিক ধারণা করছে-গাড়ির এসির টক্সিক গ্যাস নির্গত হয়ে চার ভাইয়ের মৃত্যু হতে পারে। গাড়িতে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে প্রথমে তারা নিস্তেজ হয়ে পড়েন, তাতে গাড়ির জানালা বা দরজা খোলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তারা খুব কম সময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিষয়টি তদন্ত করছে ওমান পুলিশ এবং নিহতদের ময়না তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। 

এদিকে রহস্যজনকভাবে একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোক। উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার মানুষ নিহত চার ভাইয়ের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। জীবিকার তাগিদে ওমানে থাকা একই পরিবারের চার সহোদরের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে তাদের মা ঘণ্টায় ঘণ্টায় অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন।

ওমানে নিহতরা হলেন রাসেদুল ইসলাম (৪০), শাহেদুল ইসলাম (৩২), সিরাজুল ইসলাম (২৮) ও শহিদুল ইসলাম (২২)। তাদের বাবার নাম মৃত আবদুল মজিদ ওরফে জামাল উদ্দিন এবং মায়ের নাম ফরিদা বেগম। পরিবারের আরেক ভাই এনামুল ইসলাম (২৫) অনার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি দেশে আছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাব-অনটনের সংসারে কৃষিকাজ করেই কোনোমতে জীবনযাপন করতেন তাদের বাবা। ছোট ছেলে শহিদুল ইসলামের জন্মের মাত্র তিন বছর পর মারা যান তিনি। এরপর বড় দুই ছেলেকে তেমন লেখাপড়া করাতে পারেননি মা ফরিদা বেগম। সংসারের হাল ধরতে প্রায় এক যুগ আগে বড় ছেলে রাসেদুল ইসলাম ওমানে পাড়ি জমান। পরে ছোট ভাই শাহেদুল ইসলামকেও নিয়ে যান সেখানে। দুই ভাই মিলে ওমানে একটি কার ওয়াশের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা কিছুটা দাঁড়িয়ে গেলে পর্যায়ক্রমে ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামকেও নিয়ে যান। পাঁচ ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল প্রবাসের আয় দিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর। প্রায় ৫ বছর আগে জায়গা কিনে পরিবারের জন্য একটি বাড়ির কাজও শুরু করেন তারা। তবে সেই ঘরের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি।

এরই মধ্যে ছয় মাস আগে দেশে এসে বিয়ে করেন শাহেদুল ইসলাম। অন্যদিকে সিরাজুল ইসলামেরও দেশে এসে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল। সেই উদ্দেশ্যে ছোট ভাই শহিদুল ইসলামকে নিয়ে আজ শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার টিকিটও কাটা হয়েছিল।

স্বজনরা জানান, দেশে ফেরার আগে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে গত বুধবার দুপুরে চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে বের হন। পথে একটি পাকিস্তানি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খান তারা। কেনাকাটার জন্য বের হওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি হাসপাতালের সামনে গাড়ি পার্ক করেন। সেখানেই ঘটে বিপর্যয়। কোনোভাবেই গাড়ির দরজা খুলতে পারছিলেন না তারা। রাত ৮টা ২৬ মিনিটে শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ২৪ সেকেন্ডের একটি অডিও বার্তা পাঠান। তিনি বলেন, ‘পারভেজ তুরা হডে। তাইলি তুই এক্কেনা এডে আই। আঁরা চারওজন গারিত্তুন লামিন নপারির। আর বদ্দারে আঁরা ডাক্তারের এডে লইয়াসসি, গারি তাগিলি হনিকিয়ারে লয় আইতো’ কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক আর ক্লান্তি। তিনি সাহায্যের জন্য পরিচিতজনদের দ্রুত সেখানে যেতে বলেন। কিন্তু তাদের বিপদের মাত্রা কেউ আঁচ করতে পারেননি। তাই তাদের সাহায্যে কোনো প্রবাসী এগিয়ে আসার সময় পাননি। 

রাত দেড়টার দিকে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিজেদের দোকান বন্ধ করে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে গেলে তারা দেখেন গাড়ির ভেতরে চার ব্যক্তির নিথর দেহ। গাড়িটি চালু অবস্থায় ছিল। তারা বাইরে থেকে ভেতরের চার ব্যক্তিকে ডাকলেও ভেতর থেকে কোন সাড়া মিলেনি। তারা দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে পুলিশে খবর দেন। রাতে পুলিশ এসে সবার মরদেহ উদ্ধার করে। মুলাদ্দাহ শহরের একটি হাসপাতালে তাদের মরদেহ রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ওমান পুলিশ। গাড়ির ভেতর এসির গ্যাসের কারণে কিংবা খাদ্যে বিষক্রিয়া আক্রান্ত হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে বান্দারাজার পাড়া এলাকায় চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। নিহত রাসেদুল ইসলামের রেখে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক সন্তান ও তিন মাস বয়সী আরেক শিশুকে ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক হলো–মা ফরিদা বেগম এখনো জানেন না, তার চার সন্তান আর বেঁচে নেই। পরিবার তাকে শুধু জানিয়েছে, ছেলেরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ছেলেদের অসুস্থতার খবর শুনেই কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাচ্ছেন মা। ঘটনার পর উৎসুক জনতা অনেক ভিড় করছে। তাদের স্বজনরা ঘরের ভেতর কাউকেই ঢুকতে দিচ্ছে না। 

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় দাফনের ব্যবস্থা করা হোক। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী চার প্রবাসীর মৃতদেহ দেশে আনার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, পরিবার থেকে যেতে নিষেধ করায় তিনি ওই পরিবারকে সমবেদনা জানানোর জন্য যাননি। কারণ ওই পরিবারের স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বৃদ্ধা মাকে দেখতে গেলে তিনি তার চার ছেলের মৃত্যুর খবর জেনে যাবেন। শুধু তিনি নয়, অন্যদেরও আপাতত ওই বাড়িতে না যাওয়ার জন্য স্বজনদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
গ্রেপ্তার হওয়া বাস চালক, হেলপার ও সুপার ভাইজার। ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ পুলিশ। এ দুর্ঘটনায় ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক মো. ঝন্টু আলী (৪৮), কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার সুপারভাইজার মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং আলামপুর এলাকার চালকের সহকারী শাকিব হোসেন (২২)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে কুাষ্টিয়া থে‌কে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুসারে বাসের যাত্রীরা নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই ঘটে বিপত্তি। চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ফেরি 'বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর'-এ না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত 'করবী অক্সফ্যাম' ফেরির ওপর উঠে যায়। এরপর ফেরিটির শেষ প্রান্তের র‌্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র‌্যাম্পের শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

নৌ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে সুপারভাইজার ও হেলপার কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় করবী অক্সফ্যাম ফেরির র‌্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি বড় অংশ পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে যায়। এতে সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, নৌ পুলিশের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পেনাল কোডের ২৭৯, ৪২৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ এপ্রিল একই নৌরুটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এবারের ঘটনায় চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বারবার এই ঘাটে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সুমন/নাঈম

মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ
আলম হোসেন মোল্যা। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদী ইউনিয়নের বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. আলম হোসেন মোল্যার বিরুদ্ধে জাল সনদে দীর্ঘ ৯ বছর চাকরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি বিধি মোতাবেক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, যার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।

জাল সনদের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ২০১৯ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. আলম হোসেন মোল্যা ২০০৮ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তিনি কখনো কওমি মাদরাসার কিতাব বিভাগে অধ্যয়ন না করেই জাল সনদ দাখিল করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভ করেন। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন এক সহকারী পরিচালক তদন্ত পরিচালনা করেন। ওই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক, মসজিদ কমিটির সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুনরায় ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক গঠিত ছয় সদস্যের একটি তদন্ত বোর্ড অভিযুক্ত শিক্ষকের সনদ যাচাই-বাছাই করে। যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন। যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত বোর্ডে দাখিল করা সনদ জাল বলে প্রমাণিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও তিনি শিক্ষক পদে বহাল থাকার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ গ্রহণ করেছেন তিনি। তার এ জালিয়াতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, চাকরি থেকে অব্যাহতি, সরকারি অর্থ ফেরত আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আলম হোসেন মোল্যার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তিনি যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য। সেখানে আমি কতটুকু ন্যায়বিচার পেতে পারি? আমার সনদপত্র জাল নয়। আমার সনদে একই ব্যক্তির একই ধরনের স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযোগকারীরা কোথা থেকে একই ব্যক্তির দুই ধরনের স্বাক্ষরসংবলিত সনদপত্র পেয়েছেন, তা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে সনদ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মুফতি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আলম হোসেন মোল্যাকে তার কাগজপত্রসহ কমিটির সামনে হাজির করা হলে সনদ অনুযায়ী তিনি কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, তা জিজ্ঞাসা করা হয়। কিন্তু তিনি সন্তোষজনকভাবে উত্তর দিতে পারেননি। এতে বোর্ডের সদস্যদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে তার সনদগুলো সঠিক নয়।’

ফরিদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. ইয়াসিন মোল্যা বলেন, ‘মো. আলম হোসেন মোল্যার সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তার সনদ ও প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান বলেন, ‘এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার দপ্তরে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশনই ভালো জানে।’

নয়ন/রিফাত/

গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

গাইবান্ধার সাঘাটায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর রিপন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ‎

শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কলেজ মোড় সিগন্যাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎নিহত রিপন মিয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ‎হরিরামপুর ইউনিয়নের ধুনদিয়া গ্রামের মৃত্যু দুদু মিয়ার ছেলে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি বোনারপাড়া স্টেশন ছেড়ে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কলেজ মোড় সিগন্যাল এলাকায় ট্রেনটি এলে ট্রেনের নিচে পড়ে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

‎দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও বোনারপাড়া রেলওয়ে (জিআরপি) পুলিশ তাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

আহত যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বিকেলে ‎বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে জানান, আহত যুবকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে রংপুরে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

‎মিলন/নাঈম

নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইল-যশোর সড়কে যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নতুন টার্মিনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নড়াইল থেকে যশোরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নতুন টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে একটি ভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় বাসের অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন।

নড়াইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

শরিফুল ইসলাম/রিফাত/

নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে বাবুল বিশ্বাস (৪০) ও মো. টিটুল খান (৪০) নামে দুইজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার শালনগর ও মতিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাবুল বিশ্বাস মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি উপজেলার মতিনগর এলাকার বিল্লাল বিশ্বাসের ছেলে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাবুল বিশ্বাস বিকেলে ইছামতি বিলে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাসান ফেরদৌস শরীফ বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে।’

অপরদিকে একই উপজেলার শালনগর এলাকায় মো. টিটুল খান (৪০) নামে আরও একজন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। তিনি শালনগর গ্রামের মতি খানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে টিটুল খান বাড়ির অদূরে মাঠে থাকা নিজের গরু আনতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

শালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাবু খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিকেলে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে টিটুল খানের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।’

শফিকুল/রিফাত/