কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশু বেশি রয়েছে। এতে উৎপাদিত কোরবানির পশু দিয়ে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশের উপজেলাগুলোতেও সরবরাহ করা যাবে। তবে জেলাটি ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় খামারি ও গৃহস্থরা পশুর ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে তারা জানিয়েছেন, কোরবানির হাট শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগ থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু অনুপ্রবেশ করান একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। যার কারণে কুমিল্লার দাউদকান্দিসহ অন্যান্য উপজেলার খামারিদের পড়তে হয় লোকসানের মুখে। তবে এ সময়ে যেন কোনো গরু না আসতে পারে এ জন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
দাউদকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র মতে, এ বছর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় কোরবানির জন্য ১৭ হাজার ৪৫টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২ হাজার ৮২টি গরু, ৬টি মহিষ, ৪ হাজার ৯৪০টি ছাগল ও অন্যান্য পশু ১৭টি। উপজেলাজুড়ে এবার কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১১ হাজার ৮৮৬টি পশু। সেই হিসেবে চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৮৬৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর ফার্মের পরিচালক মো. টবলু মিয়া বলেন, ‘কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার বেশ কয়েকটি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই হাটে নেওয়া হবে। বেশির ভাগ গরুই বড় আকৃতির। গায়ের রং চমৎকার। গরু দেখা মাত্রই যেকোনো ক্রেতার পছন্দ হবে। আমার এ ফার্মে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে গরু না এলে এবার খামারিরা লাভবান হবেন।’
মিনারদিয়া কামাল খামারের মালিক মো. কামাল বলেন, ‘আমার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩৮টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি কোরবানির জন্য বিক্রি হয়েছে। আমার খামারে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা দামের একটি গরু রয়েছে। সেটার ওজন হবে প্রায় ২৫ মণ। এবার খাদ্যের দাম সহনীয় থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা কম।’
কোরবানিকে কেন্দ্র করে লাভের আশায় মারুকা গ্রামের কৃষক মো. মমিন কয়েকটি গরু পালন করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর কুমিল্লার বাজারে ভারতীয় গরু আসার কারণে দাউদকান্দির কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়েছে। এবার ঘরোয়াভাবে কয়েকটি গরু লালন-পালন করেছি। শুনেছি বিজিবি সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এভাবে থাকলে দেশি গরুর কদর বাড়বে এবং আমরাও ন্যায্যমূল্য পাব।’
ইলিয়টগঞ্জ এলাকার আরেক ছোট খামারি রেজাউল আলম বলেন, ‘লাভের স্বপ্ন দেখে আমরা একটি বছর গরু-ছাগল পালন করে থাকি। চোখের সামনেই সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় চোরাই পথে আসা ভারতীয় গরু দেখে। আমরা চাই ভারতীয় পশু যেন কুমিল্লার কোনো উপজেলায় প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে প্রশাসন তৎপর থাকবে। এতে করে দেশের টাকা দেশেই থাকবে লাভবান হবে খামারিরা।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এফ এম রকিবুল হাসান ভূঁঞা বলেন, ‘উপজেলায় ছোট-বড় সব মিলিয়ে ৬৫টি গরুর খামার রয়েছে। তাদের খামারের মোটা-তাজা করা পশুসহ জেলায় কোরবানির চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ৪ হাজার ৮৬৬টি পশু রয়েছে। ফলে উদ্বৃত্ত এসব পশু এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের উপজেলায়ও বিক্রি করা যাবে। সব মিলিয়ে বলতে পারি এবার উপজেলায় কোরবানির পশুর সংকট হবে না।’
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দাউদকান্দি উপজেলার কোনো হাটে অবৈধ পথে ভারতের পশু যেন কেউ আনতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। এ ছাড়াও পশুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও হয়রানি যাতে না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।’