চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একটি ১০ তলা ভবনের লিফটের নিচ থেকে মাশফিক (৩৭) নামে এক নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) দুপুর ২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মাশফিক গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাচ্ছিলেন। স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবারও সম্ভাব্য সব জায়গায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করা হয়।
পরবর্তীতে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বজনেরা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় যাওয়ার পথে ওই ভবনের লিফটের একটি অংশ ভাঙা দেখতে পান। এতে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। দুপুর ১টার দিকে ডবলমুরিং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লিফটের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় লিফটের নিচে প্রচুর রক্ত ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ১০ তলা থেকে অসাবধানতাবশত লিফটের শ্যাফটে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে লিফট-সংক্রান্ত একাধিক দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। গত এপ্রিল মাসে চকবাজারের ডিসি রোড এলাকায় আশফাক কবির সাজিদ নামে এক কলেজছাত্রকে মারধরের পর একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৮ তলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে। এছাড়া পাঁচলাইশের সরকারি আবাসিক ভবন ‘হালদা’-তে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা লিফটে আটকে থাকার পর এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
আগ্রাবাদের এ ঘটনার পর ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও লিফট ব্যবস্থাপনার ত্রুটি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রিফাত/