ফটিকছড়িতে বাসের চাপায় তিনজনের মৃত্যুর প্রতিবাদে ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে অবরোধে যুবদল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে উপজেলার নাজিরহাট ঝংকার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় আবচার নূরী নামের এক স্থানীয় সাংবাদিক হামলার শিকার হন এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ‘ফটিকছড়ির সর্বস্তরের জনতা’ ব্যানারে একটি মশাল মিছিল বের করেন বিক্ষোভকারীরা। মিছিলটি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝংকার মোড়ে এসে অবরোধ তৈরি করে। মহাসড়কে ডিভাইডার স্থাপন, দ্রুত সংস্কার এবং নিরাপদ যাতায়াতের দাবিতে স্লোগান দেন তারা। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয় এবং শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
খবর পেয়ে নাজিরহাট হাইওয়ে ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। একপর্যায়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান আলোচনা শুরু করলে বাগবিতণ্ডা হয়।
এ সময় সেখানে উপস্থিত যুবদলের নেতাকর্মীরা অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়ায়। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয় এবং দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক আবচার নূরী আহত হন। পরে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোজাহেরুল ইকবাল লাভলু খবরের কাগজকে বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের আড়ালে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা সরকারবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সড়কে মব তৈরির চেষ্টা করছিল। সাধারণ মানুষের চলাচল ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি।’
সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, সোমবার (১ জুন) ফটিকছড়ির দুটি পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। সকালে উপজেলার পাইন্দং আমতলী এলাকায় বিআরটিসির একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাহজাহান ও তার ছেলে আরিফ নিহত হন।
অন্যদিকে, নয়াবাজার এলাকায় বাসের নিচে চাপাপড়ে প্রাণ হারান যুবক রবিউল। এ ঘটনাগুলোর জের ধরেই স্থানীয়রা অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেন।
নাজমুল আলম/তামান্না রুপা/