অধস্তন কর্মকর্তাকে চপেটাঘাত করার ঘটনায় সিলেটের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নামে এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে তিরস্কার ও এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন।
শনিবার (৬ জুন) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইসির সচিব আখতার আহমেদের সই করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে গত ২০ জানুয়ারি অফিসের টোনার ক্রয়ের বকেয়া বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে’র সঙ্গে নজরুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি পার্থ প্রতীম দেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ক্রোধান্বিত হয়ে তাকে চড় মারেন। এছাড়া তাদের মধ্যে মতবিরোধ, স্বার্থের সংঘাত, অসম আচরণ, সমন্বয়হীনতা এবং অকর্মকর্তাসুলভ আচরণের বিষয়ও তদন্তে উঠে আসে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তার কর্মকাণ্ড দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে গত ২১ মে তাকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। তবে অভিযোগনামা, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন, লিখিত জবাব এবং শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন অভিযোগের সত্যতা পায়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম একজন সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন এবং অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার এ আচরণ স্পষ্টতই ‘অসদাচরণ’ এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(২)(ক) অনুযায়ী তাকে ‘তিরস্কার’ এবং বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘু দণ্ড প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন।
এলিস/রিফাত/