ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র
Nagad desktop

টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে আল শাহারিয়া। কয়েক দিন আগে বলীখেলা দেখতে যাওয়ার পথে সে অপহরণের শিকার হয়। দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর তার খোঁজ মিলছিল না। গত শুক্রবার রাতে তাকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। বাহারছড়ার মারিচবনিয়া উপকূল দিয়ে সাগরপথে তাকে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া পাচার করা হচ্ছিল। ওই ট্রলারে অভিযান চালিয়ে আল শাহারিয়াসহ ৫০ জনকে উদ্ধার করে কোস্টকার্ড। এ সময় আটক করা হয় মানব পাচারে জড়িত ৯ জনকে।

শাহারিয়ার দাবি, ফারুক নামে এক ব্যক্তি তাকে মানবপাচারকারী দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।

অভিযানে উদ্ধার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিদেশে উন্নত জীবন ও উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র টেকনাফে নিয়ে আসে। পরে তাদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর সুযোগ বুঝে তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেককে অপহরণ করে এনেও পাচারের চেষ্টা ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় নৌঘাট ও সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারীদের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকা থেকে নৌপথে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চিহ্নিত ঘাটগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া, মাথাভাঙ্গা ও মারিচবনিয়া নৌঘাট।

গতকাল শনিবার কেরুনতলি টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুত্তাকীন সিদ্দিকী বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে—এমন গোপন তথ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে থামার সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়াসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় এটিকে থামানো হয়। এ সময় ৫০ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ৯ পাচারকারীকে আটক করা হয়। 

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ট্রলারের স্টাফরা অবশ্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বলেছেন, মাছ ধরার কথা বলে তাদের সমুদ্রে নামানো হয়। পরে ট্রলারমালিক তাদের মানুষ টানতে বাধ্য করেন। স্টাফদের একজন সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, তাকে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা বলে ট্রলারে আনা হয়েছিল। তারা দুই দিন সাগরে মাছ শিকার করেন। পরে হঠাৎ জাল তুলে ট্রলারটি টেকনাফের বাহারছড়া মরিশবুনিয়াসংলগ্ন সাগরে নোঙর করা হয়। 

তিনি বলেন, ‘ট্রলারে মোট ১৪ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। একপর্যায়ে একটি ছোট মাছ ধরার ডিঙি নৌকায় করে কয়েকজন লোককে এনে ট্রলারে তোলা হয়। বিষয়টি মাঝির কাছে জানতে চাইলে তিনি তখন জানান, এটি মালিকের নির্দেশে করা হয়েছে। পরে ওই লোকজন রাতেই ট্রলারে অবস্থান নেন।’ 
সিরাজুল জানান, পরে কোস্টগার্ড ট্রলারটি ঘিরে ফেলে। এ সময় মাঝি শাহীনসহ কয়েকজন সাগরে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ট্রলারের মালিক জসিম এবং মাঝি শাহীন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এসব অপকর্ম করতেন। তাদের মাছ ধরার কাজের কথা বলে ট্রলারে আনা হলেও প্রকৃতপক্ষে অন্য উদ্দেশ্যে ট্রলারটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।

টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা বলেন, ‘নোয়াখালীপাড়া থেকে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বের সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে দ্রুত পাহাড়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নোয়াখালীপাড়ায় একটি পুলিশ চৌকি স্থাপন করা জরুরি।’

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আবু সাঈদ জানান, মানবপাচার, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় টহল কার্যক্রম এবং চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ১০০ সদস্যের একটি গ্রাম প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।

পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে চার দিনের মাথায় অবশেষে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (৭ জুন) রাতে কয়েক দফায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে শিশুসহ ওই ১০ জনকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর আবারও সীমান্তের লাইট চালু করে তারা।

এর আগে শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আবারও ভারতের অংশের শূন্যরেখা থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ভারতীয় সীমান্তরেখা থেকে পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের বিএসএফ ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও বিজিবির টহল ও অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বড় লবাড়ি প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ বলেন, ‘রবিবার রাত দেড়টার দিকে প্রথমে বিএসএফ ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে। পরে আবার চালু করে। এভাবে দুই-তিনবার লাইট বন্ধ করার পর তারা চলে যায়। আমরা এমন ঘটনা আর দেখতে চাই না।’

একই কথা বলেন আতাউর রহমান নামে আরেক স্থানীয় যুবক বলেন, ‘পুশইনের ঘটনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। বিজিবির সঙ্গে আমরা সব সময় রয়েছি। বিএসএফ ওই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, এটি ভালো করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও মজবুত হোক এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্পর্কও ভালো থাকুক।’

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় আমরা কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছি।  রবিবার রাতে বিএসএফ যে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল, তাদের সবাইকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। বড়বাড়ি সীমান্তে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আমাদের টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’ 

রনি মিয়াজী/রিফাত/

চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি
ছবি: সংগৃহীত

ছয় দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

সোমবার (৮ জুন) কর্মবিতরতির পাশাপাশি তারা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ নকর্মসূচিও পালন করেন।

এদিকে, তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সোমবার সকাল থেকে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ইরফানুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

তবে দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। আলোচনার পর কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে তারা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। স্বাভাবিক সময়ে তারা অন্তত ডিউটি ডকটরস রুমে গিয়ে চিকিৎসককে রোগীর তাৎক্ষণিক সমস্যার কথা বলতে পারতেন। তারা দ্রুত এসে সমাধান দিতেন কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই।

রোগীদের সেবায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে ইরফানুর রহমান বলেন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং ওয়ার্ডগুলোতে সেবা চালু আছে। যেহেতু আমরা কর্মবিরতিতে আছি তাই সেবায় বিঘ্ন ঘটাই স্বাভাবিক।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফাসমূহ হলো, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিএমডিসি ও বাংলাদেশ
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা।

এসব দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

ইন্টার্ন ডাক্তারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
এতে বলা হয়, গত ১৯ মে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা জারির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এফসিপিএস প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা এখন থেকে বিসিপিএস স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিলে প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত হবেন। বাকি দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাঈম/

সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে নওগাঁর সাপাহারে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সাপাহার উপজেলা হলরুমে স্থানীয় প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম ও সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ।

বক্তারা বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। এমন কিছু করা যাবে না যাতে দেশের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। সীমান্তে অনুপ্রবেশসহ যাবতীয় অস্থিরতা ঠেকাতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশিষ কুমার, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান টকি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী লাবু, প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আব্দুন নুরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হারুন/নাঈম

বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের একটি খাল থেকে শামীম (৩০) নামের এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে গৌরিচন্না বাজারসংলগ্ন একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শামীম ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মুনসুর আলী বেপারির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১১টার পর থেকে শামীম নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সকালে খালের পাড়ে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে আশপাশে অনুসন্ধান চালিয়ে খালের পানিতে একটি মাথাবিহীন মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও মরদেহের অবস্থা দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। 

নিহতের স্বজনদের দাবি, শামীমকে হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ, সময় এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। নিখোঁজ মাথা উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

মহিউদ্দিন/নাঈম

চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধা কচ্ছপিয়া সংলগ্ন পাহাড়ি ঢালু রাস্তায় দুই বাসের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে বাস চালক ও এক শিশু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ প্রায় ৪০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ২টা ৩০টার মিনিটের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কলখুটাখালী ইউনিয়নের মপধা কচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালু জায়গায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহতরা হলেন- দুর্ঘটনা কবলিত বাসের চালক আলম, তার বাড়ি টেকনাফ এবং ৮মাস বয়সী এক শিশু।

​প্রত্যক্ষদর্শী সাঈদ বলেন, দুপুরে চকরিয়ার খুটাখালী মেধা কচ্ছপিয়া এলাকার একটি পাহাড়ি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার এভারগ্রিন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী এএস আলম নামে একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসেরই সম্মুখভাগ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই লোকাল বাসের চালক আলম ও এক শিশু মারা যায়। লোকাল বাসের ছাদ ভেঙে অনেক দূরে পড়ে যায়।

​দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দা, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে আহতদের নিকটবর্তী চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মালুম ঘাট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ডুলাহাজারার উত্তরপাড়ার আয়েশ নূর (১ বছর ৪ মাস) ও আলীকদম বেগম (৩০) নামে এক নারীসহ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

​মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি জব্দ করে। পাহাড়ি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে অতিরিক্ত গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহত এভারগ্রিন বাসের যাত্রী মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, আমার মা নূর আইসাকে নিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে হার্টের চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলাম। সঙ্গে আমার বোন ফারজানা ও মামা ফয়েজ আহমদও ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমরা সবাই আহত হয়ে এখন নিজেরাই রোগীতে পরিণত হয়েছি।

অপরদিকে, এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে  চকরিয়ার কোরক বিদ্যাপীঠ স্কুলে থেকে জান্নাতুল মাওয়া তার বাবা ফরিদুল আলমের সঙ্গে লোকাল বাসে ককৃসবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। খুটাখালীর মেধাকষ্টপিয়াএলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে দুজনই আহত হন। এতে জান্নাতুল মাওয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার বাবা ফরিদুল আলমের হাত ও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মালুম ঘাট  খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আরেকজন রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। 

রকিবুল/নাঈম