চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ময়মনসিংহ থেকে এক তরুণীকে সাতক্ষীরায় এনে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মেহেদি হাসান ওরফে সবুজ (২৪), তার ভাই সাকিব হোসেন (২০) ও মো. গোলাম রসুল ওরফে রাকিব (২১)।
তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠুনিয়া গ্রামে।
এর আগে গত শনিবার (২২ মার্চ) থেকে বুধবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোরে নিজের কাছে থাকা মোবাইল দিয়ে জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায় ওই তরুণী। ওইদিন দুপুরে পুলিশ ভুক্তভোগী তরণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
হাসপাতালের চিকিৎসক সোমা রানী দাস বলেন, ‘ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি অনেক অসুস্থ। তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে।’
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, তার বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায়। কয়েক দিন আগে ফেসবুকে তার সঙ্গে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠুনিয়া গ্রামের গোলাম রসুলের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে ভারতে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেন রসুল। পরে তার কথা মতো গত ২২ মার্চ তিনি কালীগঞ্জে আসেন। ওইদিন সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে মেহেদি হাসান ও রসুল তাকে মেহেদির বাড়িতে নিয়ে যান। মেহেদির বাড়ি থেকে ভুক্তভোগীকে কদমতলা গ্রামের আমিনুল ইসলাম নামে একজনের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অচেতন করার পর তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
পরদিন সোমবার তাকে শ্যামনগর উপজেলার কুলতলী গ্রামে একজনের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। মঙ্গলবার আবার তাকে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করেন। এরপর আবার তাকে মেহেদির বাড়িতে আনা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের কাছে থাকা মোবাইল দিয়ে জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। সেদিন দুপুরেই পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত শনিবার ওই তরুণী সাতক্ষীরা আসার পর তাকে আটকে রেখে বুধবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। সেই মামলায় আটকদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
নাজমুল শাহাদাৎ/অমিয়/