নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আধিপত্য বিস্তার ও ইজিবাইক স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে সিটি করপোরেশনের সাবেক দুই কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আব্দুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে ও মেহেদী নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
শনিবার (২২ জুন) রাতে উপজেলার হাজারীবাগ ও সিরাজুদ্দৌলা ক্লাব মাঠের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
নিহত আব্দুল কুদ্দুস (৬০) হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা ও মেহেদী (৩৮) মদনগঞ্জে বসবাস করতেন।
স্থানীয়রা জানান, বন্দরে আধিপত্য বিস্তার ও ইজিবাইক স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের অনুসারী মেহেদী বাবু ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক-সাবেক কাউন্সিল আবুল কাউসার আশার অনুসারী জাফর রনির মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর জেরে শনিবার রাত ৯টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে আহত করে হান্নানের অনুসারীরা। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এসময় সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হান্নান সরকারের বাড়িসহ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। পরে সিরাজুদ্দৌলা ক্লাব মাঠের সামনে তার সমর্থক মেহেদীকে আটক করে পিটিয়ে আহত করে আশার সমর্থকরা। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা মেহেদীকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বন্দর থানার আলাদা দুটি হত্যা মামলা হয়েছে জানিয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে নিহত কুদ্দুস ও মেহেদীর মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরসহ সংঘর্ষকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযানে ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
বিল্লাল হোসাইন/অমিয়/