কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত আটটার দিকে কাঁটাবিল মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার মহরম হোসেন (৩৫) নগরীর মুরাদপুর এলাকার চারু মিয়ার ছেলে। তিনি তার শ্বশুরবাড়ি নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তার স্ত্রীর নাম শারমিন আক্তার। তার ১১ বছরের মেয়ে ও ৭ বছরের ছেলে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মহরমকে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার মহরমের বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার বন্ধু অপুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের থেকে জানা গেছে, মহরম ও তার বন্ধু অপু শনিবার রাতে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের পাথুরিয়াপাড়ার যাচ্ছিলেন। রাত আটটার দিকে কাটাবিল মসজিদের সামনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায়। অপুকে মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় মহরমকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অপু সাংবাদিকদের জানান, কাটাবিল মসজিদের সামনে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে দেয় তারা। চালকের আসনে থাকা অবস্থায় মহরমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সেখান থেকে পাশের একটি দোকানে নিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
এদিকে পুলিশ নিহত মহরমকে মাদককারবারি বললেও অপুর দাবি, মহরম এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। প্রায় ১৫ দিন আগেও দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই পরিকল্পিতভাবে মহরমকে হত্যা করা হয়েছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, নিহত যুবকের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৮টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মাদক কারবার–সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে এ খুনের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে জানতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। অপুকে ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইফুল মালিক বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জহির শান্ত/মৌসুমী/