জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে বিক্রি করে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কর্মচারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আলামিন (৩৯)।
সিআইডি জানায়, মাত্র ৩০ দিনে তারা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮ জন নাগরিকের এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন। জনপ্রতি ৩০০ টাকা হিসাবে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে চক্রের অপর সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
গোপন আইডি-পাসওয়ার্ডের অপব্যবহার
সিআইডির তথ্যমতে, মো. আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারাদেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা যেত। পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিতেন আলামিন।
অন্যদিকে, মো. হাবীবুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে গোপন আইডির মাধ্যমে জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে এনআইডির সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করতেন।
সম্পদের পাহাড়, বিলাসী জীবন
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন।
স্বীকারোক্তি ও মামলা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তারা তথ্য বিক্রি করতেন।
এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় করা মামলার তদন্তে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, এই চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এলিস/এসজি/