চাঁদাবাজিকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজ্জাক গুলশান-২ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ছাত্র।
গতকাল শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই আরমান আলীর আবেদনে ঢাকার মহানগর হাকিম দিলরুবা আফরোজ তিথি এ আদেশ দেন। এই হত্যাচেষ্টা মামলায় রাজ্জাকের সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদুল হাওলাদার, আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী এস এম জাকির হোসেনসহ কয়েকজন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। জামিন শুনানির জন্য রবিবার দিন ঠিক করা হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার আদেশ দেন আদালত।
এর আগে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। সেই মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্জাক ও তার ওই সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্বশত্রুতা ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলায় ৪১২ নম্বর কক্ষে সাক্ষাৎ হলে আসামিরা তাকে (নির্জন) সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য বলেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করার সময়ে রাজ্জাকের হুকুমে আসামি রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠে ও বুকে আঘাত পান। এর পরই রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডলে আঘাত করে। এতে তার নাকে লেগে উপরিভাগ কেটে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তখন নির্জনের বন্ধুরা ও শিক্ষকরা এগিয়ে এলে আসামিরা নির্জনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাজ্জাকসহ ওই আসামিদের আটক করে নিয়ে যায়।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত) শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাজ্জাক। ওই মামলায় জামিনে কারামুক্ত হয়েছিলেন। পরে এবার তিনি হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে গেলেন।