দিনাজপুরের হিলিতে নেশার টাকা জোগাড় করতে ২২ দিনের শিশুর হাত কেটে ও পা পুড়িয়ে প্রতিবন্ধী বানানোর অভিযোগ উঠেছে নেশাগ্রস্ত খাদিজা ও সাগর দম্পতির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কয়েলের আগুনে পুড়ে গেছে বলে দাবি করেন অভিযুক্তরা।
শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এলাকাবাসী আব্দুল মালেক জানান, সন্তানের ভালোর জন্য নিজেদের জীবন দিতেও কার্পণ্য করেন না বাবা-মা। সন্তানের সামান্য কিছু হলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন, সেখানে নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য নিজের ২২ দিনের সন্তানের হাত কেটে ও পা পুড়িয়ে প্রতিবন্ধী বানিয়েছেন খাদিজা ও সাগর।
এলাকাবাসী হেবোল হোসেন বলেন, হিলির চুড়িপট্টি গ্রামের 'মাদকসেবী' ওই দম্পতির ঘরে কিছুদিন আগে ফুটফুটে ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরে নিজ বাড়িতে সন্তানের হাত কেটে আঙুল বাড়ির বাইরে পুঁতে ফেলেন বাবা। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
শিশুটির মা খাদিজা বলেন, ঘরের মধ্যে কয়েলের আগুনে শিশুটির হাত-পা পুড়ে গেছে। পরে তারা হাতের কব্জিটি বাড়ির পাশে মাটিতে পুঁতে রাখেন।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন তৌহিদ জামান জানান, শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসার সব ব্যয়ভার নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নবজাতক ২২ দিনের শিশুটির অঙ্গহানি করায় তীব্র প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। সবাই তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কুদ্দুস আলী/নাঈম