রাজধানীর বুসন্ধরা সিটির ‘অলংকার নিকেতন’ নামে একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বশাক (৪৭) নামে এক বিক্রয়কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক বিক্রয়কর্মী (সেলসম্যান)।
প্রতিষ্ঠানটির মালিকের ছেলে দাইয়ান আজাদের করা মামলায় মঙ্গলবার (১২ মে) স্বপন বশাককে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) জসীম উদ্দিন খান খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বশাক ওই জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরিতে থাকার সময়ে স্বপন অন্য একাধিক সহযোগীর যোগসাজসে প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগ তদন্তে নেমে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগেও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদারকি কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জয়নাল আবেদীন খবরের কাগজকে বলেন, সিআইডির পরিদর্শক মুহিতুলের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে স্বপন বসাককে তেজগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। স্বপনের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুরের রামচন্দ্রপুরে। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অলংকার নিকেতন নামে ওই প্রতিষ্ঠানে একাধিক কর্মচারীর সহযোগিতায় প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাৎ করা হয়েছে অভিযোগ করে ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী দাইয়ান আজাদের বাবা বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দোকান থেকে মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা) আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তদন্তকালে সিআইডি আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখেছে, গ্রেপ্তার স্বপন সেলসম্যান হিসেবে মাসিক আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এছাড়া স্বপন বসাকের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
আলমগীর/এসজি/