কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আগের চেয়ে সোনালি মুরগির সরবরাহ বেড়েছে। এ জন্য দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। ব্রয়লার মুরগির দামও কমতির দিকে। ডিমের দাম কমে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় নেমেছে। তবে চালের মজুত বাড়লেও দাম কমেনি। অন্যদিকে আলুসহ সবজির দাম কমতির দিকে। গতকাল সোমবার নিউ মার্কেট, মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে একই পণ্য বিভিন্ন বাজারে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, শীত মৌসুমে পিকনিকসহ বিভিন্ন উৎসব শুরু হয়েছে। মুরগির সরবরাহও সেই সঙ্গে বেড়েছে। তাই দাম কমতির দিকে। আগে বেশি দামে বিক্রি হলেও গতকাল বিভিন্ন বাজারে সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে নিউ মার্কেটের মুরগি বিক্রেতা জামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগে বেশি দামে বিক্রি করতাম। কিন্তু কয়েক দিন ধরে একটু কমেছে। সোনালির কেজি ৩৩০ টাকা, ব্রয়লার ২০০ টাকা।’ তবে আগের মতোই দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি।
বাজারে কমলেও খুচরা দোকানে বেশি ডিমের দাম
এদিকে ডিমের দাম আগের চেয়ে কমে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। টাউন হল বাজারের কামাল ট্রেডার্সের কামাল হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন থেকে ডিমের দাম কমেছে। সাদা ডিম ১২৫ ও লাল ডিম ১৩০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ১৩৫ টাকার কমে মেলে না। এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুরের ফিউচার মডেল টাউন হাউজিংয়ের ৩ নম্বর রোডের মায়ের দোয়া স্টোরের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটু বেশি দরে কেনা। এ জন্য দাম একটু বেশি। ১৩৫ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে।’
বাড়তি দামেই স্থির চালের বাজার
সরকার চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে; ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে। এভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও কমছে না চালের দাম। বাজারে আগের মতোই বেশি দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে টাউন হল বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা শাহিন রাইস স্টোরের রাকিব হাসান বলেন, ‘কিছু দিন থেকে চালের দাম চড়া। আর কমেনি। এ জন্য বেশি দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’ বিভিন্ন বাজারে মিনিকেট ৭২-৮৫ টাকা, আটাশ চাল ৬২-৬৫, মোটা চাল ৫৪-৫৬ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আগের মতোই ছোলার কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, মসুর ডাল ১১০ থেকে ১৩৫, দুই কেজি ওজনের প্যাকেট আটা ১০০-১৩০, চিনি ১২০ থেকে ১২৫, এক লিটার সয়াবিন তেল ১৭৫ ও পাঁচ লিটার ৮৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
কমতির দিকে সবজির দাম
কয়েক দিনের ব্যবধানে আলুর দাম কমে এসেছে। গতকাল বিভিন্ন বাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে পাল্লা ধরে অর্থাৎ পাঁচ কেজি কিনলে ২০ টাকা দরে মিলছে। পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, দেশি আদা ১২০ ও আমদানি করা আদা ২২০, রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। বিভিন্ন বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, শিম ৩০ থেকে ৫০, কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০, টমেটো ৪০ থেকে ৫০, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, ফুলকপির পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ও চালকুমড়ার পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।