দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ হাজার ৯৮৪ টন পাট রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রপ্তানি নীতি সংশোধন করে এ সুযোগ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্ত আবেদন সাপেক্ষে ওই ১২ প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যারা রপ্তানির অনুমতি পেল
এ দফায় ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স ২০৮ টন, পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ ৮২২ টন, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৩৬৬ টন, রশ্মি কবির ১০৪ টন, জননী এন্টারপ্রাইজ ৫২ টন, শরীফ ট্রেড ভিলেজ ২৬ টন, দি ওয়ার্ল্ড জুট গার্ডেন ২৫ টন, আইডিয়াল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১৯২ টন, আরএস ট্রেডার্স ১৩০ টন, বুলবুল ট্রেডার্স ২৫ টন, জুটব ইম্পেক্স ১৩০ টন এবং এনএস জুট বেলিং ১০৪ টন পাট রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে।
কাঁচাপাটের সংকট, রপ্তানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা
বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) ও বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ)- উভয় সংগঠনই অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত কাঁচাপাট রপ্তানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছে।
সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এতদিন দেশ থেকে কাঁচাপাট রপ্তানি সীমিত ছিল। এরপরও সংকট দেখা দিয়েছে কাঁচাপাটের। মৌসুমের শুরুতেই সারা দেশে কাঁচাপাটের চড়া দাম উঠেছে এ বছর। এমন পরিস্থিতিতে পাট রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।
পাট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কৃষকরা প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু এখন প্রতি মণ পাটের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।
এই হঠাৎ দাম বৃদ্ধি ও বাজারে ঘাটতির জন্য মজুতদারদের দায়ী করেছেন এই দুই সংগঠনের নেতারা।
তারা বলেছেন, বছরের পর বছরেও এমন কঠিন পরিস্থিতি দেখা যায়নি, মৌসুমের মধ্যেই কাঁচামাল যেন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ী এবার অস্বাভাবিক পাট মজুতের অভিযোগও করছেন।
এই দুই সংগঠনের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে পাটের দাম ২০২১ সালের রেকর্ড ৬ হাজার ২০০ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তখনই দেশ প্রায় ৩০ শতাংশ বাজার হারিয়েছিল। সে সময়ে পলিপ্রোপিলিন সুতা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ ক্রেতারা ব্যয়বহুল পাটজাত পণ্যের পরিবর্তে সস্তা বিকল্পে ঝুঁকেছিল। যার প্রভাবে দেশে পরবর্তী সময়ে পাটের চাহিদা কমেছিল।
বিজেএমএ চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ‘‘পাট খাত টিকিয়ে রাখতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো আধুনিক ডেটা সেন্টার ও পৃথক ‘জুট কমিশন’ গঠন করা দরকার। এ ছাড়া অন্য ফসলের মতো কাঁচাপাটেরও ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা দরকার, যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পান ও উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে মিলগুলো টিকে থাকতে পারে। তা না হলে রপ্তানি বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় হয়েছিল ১১৬ কোটি মার্কিন ডলার। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ১১৩ কোটি ডলারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয় ৯১১ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ সালে ৮৫৫ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৮২০ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলারে।