যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করায় বিশ্বব্যাপী সব ব্যবসায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ডলারের দামে ঘন ঘন ওঠানামা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে যে মুদ্রা সেটার সঙ্গে ডলারের দামের ব্যবধানটা অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। তাই এখন আর মানুষ ডলারের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। বড় দেশগুলো সোনা কিনে রাখছে। বিশ্বব্যাপী বেশি পরিমাণে সোনা মজুত করা হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয়ে জানতে জরোয়া হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাদল রায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন খবরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার মো. আকাশ।
খবরের কাগজ: বাজারে সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড করার পর আবার কিছুটা কমেছে। এর কারণ কী?
বাদল রায়: বাজারে সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড করার পর কমেছে। এর অন্যতম কারণ হলো দেশের বাজারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম অনেক বেড়েছে। দাম বেশি বাড়ার ফলে আবার কিছুটা পতন হয়েছে। দেশের স্থানীয় বাজারে পতনের কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে পতন। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের পতন হচ্ছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করছেন আবার হঠাৎ করে বিনিয়োগ উঠিয়েও নিচ্ছেন।
খবরের কাগজ: বাংলাদেশ থেকে সোনা চোরাচালান হচ্ছে- এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। সোনা চোরাচালান কেন হচ্ছে?
বাদল রায়: বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন দেশে সোনা চোরাচালান হচ্ছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বিমানবন্দরে ঝুঁকি কম থাকার কারণে সহজে সোনা চোরাচালান হচ্ছে। এর কারণে দুবাই বা মধ্যপ্রাচ্য বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের বাজারে বেশি দামে সোনা বেচাকেনা হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা অনেক লাভবান হচ্ছেন। তাই বাজুস এবং সোনা ব্যবসায়ীদের দাবি হচ্ছে দেশে সোনা চোরাচালান বন্ধ করা হোক।
খবরের কাগজ: সোনা চোরাচালান বন্ধ করার জন্য কী করা উচিত?
বাদল রায়: সোনা চোরাচালান বন্ধ করার জন্য অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে আনতে হবে। এমন নীতি আরোপ করতে হবে যাতে সোনা চোরাচালানে মানুষ নিরুৎসাহী হয়। ‘ব্যাগেজ রুলস’ কঠোর করা, সোনার বার আনা বন্ধ করা এবং সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা ও তা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও ধরতে দেশব্যাপী চিরনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাসপোর্ট স্ক্যান করে যাত্রীর তথ্য সংরক্ষণের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোরাচালান-প্রবণ যাত্রীদের ঘন ঘন বিদেশ যাতায়াত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে সোনা কেনা-বেচার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং উচ্চ শুল্কের কারণে অবৈধ পথে সোনা আনার প্রবণতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
খবরের কাগজ: বাংলাদেশে সোনা আমদানির অনুমতি থাকা সত্ত্বেও সোনা আমদানি হচ্ছে না কেন?
বাদল রায়: বাংলাদেশে সোনা আমদানি বাড়ানোর জন্য অবশ্যই শুল্কর পরিমাণ কমাতে হবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে ব্যাগেজে এবং চোরাই পথে সোনা না আসে। আমদানি করা সোনায় যেন দেশের বাজারে একমাত্র সোনা হয়।
খবরের কাগজ: সোনা আমদানি বাড়াতে হলে কী করতে হবে?
বাদল রায়: প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোনার আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করতে হবে, যাতে বৈধ আমদানিকারকরা উৎসাহিত হন। স্বর্ণালংকার বিক্রির ওপর বর্তমানে যে ভ্যাট আছে, তা কমিয়ে ২% আনতে হবে। একটি কার্যকর মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে, যা বাজারের ওপর নজরদারি করবে এবং চোরাচালান রোধে পদক্ষেপ নেবে। অপ্রাতিষ্ঠানিক সোনার ব্যবসায়ীদের বৈধ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা গেলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে। খোলাবাজারে সোনার চাহিদা মেটাতে বৈধ পথে পর্যাপ্ত সোনা আমদানি নিশ্চিত করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বৈধ পথে সোনা আমদানির পরিমাণ বাড়বে, চোরাচালান কমবে এবং দেশের স্বর্ণশিল্প আরও বিকশিত হবে।