প্রথম অধ্যায় : সমাজকর্ম : প্রকৃতি ও পরিধি
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
ছকটি দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
(ক) সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটে কোন দেশে?
(খ) সামগ্রিক কল্যাণ বলতে কী বোঝায়?
(গ) ছকটিতে সমাজকর্মের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) ছকটিতে সমাজকর্মের সকল বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় নাই। এ বিষয়ে মতামত দাও।
উত্তর: (ক) সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটে ইংল্যান্ডে।
(খ) মানবজীবনের সব ক্ষেত্রে সুষম উন্নয়ন ছাড়া সামাজিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করা যায় না। তাই সমাজকর্ম মানুষের আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানসিক, দৈহিক ও নৈতিক সব ক্ষেত্রের কল্যাণ সুনিশ্চিত করতে সদা তৎপর। সব ক্ষেত্রের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সমাজকর্ম যে বহুমুখী প্রক্রিয়া গ্রহণ করে, তাই সমাজকর্মের সামগ্রিক কল্যাণ হিসেবে খ্যাত।
(গ) উদ্দীপকের ছকে সমাজকর্মের বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন দিক প্রকাশ পেয়েছে।
আধুনিক বিশ্বে সমাজকর্ম পেশাদার সমাজকর্ম হিসেবে সমাদৃত। জটিল সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বহুমুখী সমস্যার সমাধানে সমাজকর্ম ব্যক্তিকে সাহায্য করে থাকে। তাই সমাজকর্ম সাহায্যকারী পেশা। আবার ব্যক্তি, দল বা সমষ্টিকে সমাজকর্ম সাহায্য করে তাদের সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে। সমাজকর্মের মূল বিষয় হলো ব্যক্তিকে সক্ষম করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা। তাই সমাজকর্ম হলো সক্ষমকারী পেশা। সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক জ্ঞাননির্ভর একটি পেশা। যেখানে তিন ধরনের জ্ঞান বিদ্যমান। যথা-তত্ত্বীয় জ্ঞান, অনুকল্পনির্ভর জ্ঞান এবং অনুমাননির্ভর জ্ঞান। অধিকন্তু, সেবাকর্ম হিসেবে সমাজকর্মের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিচারে বিশ্বে এটি পেশাদার সেবাকর্মের মর্যাদা পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান, সুনিপুণ দক্ষতা, পেশাগত প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি বিচারে সমাজকর্মের এই স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে।
সর্বোপরি দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের ছকে যে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সবগুলোই সমাজকর্মের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
(ঘ) সমাজকর্মের মাত্র চারটি বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের ছকে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই উদ্দীপকে সমাজকর্মের সব বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়নি।
সমাজকর্মের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন- সমাজকর্ম একটি কল্যাণধর্মী পেশা হিসেবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-লিঙ্গ নির্বিশেষ সব স্তরের মানুষের সামাজিক ভূমিকা পালনে তথা কল্যাণে কাজ করে, যা পেশাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সমাজকর্ম একটি মূল্যবোধ নির্দেশিত পেশা। পেশাগত অনুশীলনের ক্ষেত্রে একজন সমাজকর্ম তার নিজস্ব বিশ্বাস যেমন- ধর্মীয়, জাতিগত ও রাজনৈতিক পরিচয় বা অন্য যেকোনো ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে শুধু সমাজকর্মের স্বীকৃত মূল্যবোধের আলোকে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ বা সমাজকর্ম শিক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন। আবার সমাজকর্মী তার কাছে সাহায্য নিতে আসা সাহায্যার্থীর সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা অন্যান্য পেশার ক্ষেত্রে বিরল। আবার সমাজকর্ম হচ্ছে সংযোগকারী কার্যক্রম, যার মাধ্যমে অসুবিধাগ্রস্ত ব্যক্তি ও দল তাদের প্রয়োজন পূরণে সমষ্টির সম্পদকে কাজে লাগাতে পারে। অন্যদিকে সমাজকর্মের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করে। ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির সামঞ্জস্যপূর্ণ সুষম পরিবেশ বা অবস্থা সৃষ্টি করতে কাজ করে। এ ছাড়া সমাজকর্মের বহু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যা উদ্দীপকের ছকে পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়নি।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
কবীর