বাংলাদেশ দূতাবাস বাহরাইনে যথাযথ মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৫ পালিত হয়েছে।
বাহরাইনে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন।
এর পর ভাষাশহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দেওয়া বাণী পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার তার বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব ভাষাশহিদ ও ভাষাসৈনিকদের স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলেও আমরা ১৯৫৬ সালে বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা পাই। পরে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘রজতজয়ন্তীতে এ দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘Make languages count for sustainable development’ যা যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে। বাংলা ভাষাকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। ভাষা সম্পর্কে আমাদের আরও জানতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে অন্যান্য ভাষা শেখার পাশাপাশি বাংলা ভাষা শেখার প্রতি আরও জোর দিতে হবে।’
এ সময় তিনি প্রবাসীদেরকে বাহরাইনের সব নিয়মকানুন যথাযথভাবে পালন করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তিনি প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি সবাইকে একযোগে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে বাহরাইনে বাংলাদেশ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে তারা সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। রাষ্ট্রদূত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সব ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে উপহার বিতরণ করেন।
ভাষাশহিদদের পাশাপাশি বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সব পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী সব শহিদসহ জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা যোগ দেন।
সুমন/