ব্যবসা হলো ধনী হওয়ার হাতিয়ার। নিজের ব্যবসাকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যাওয়া অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয়ে। কিছু নিয়ম মেনে এবং সেগুলো নিয়মিত চর্চা করলে ব্যবসায় সফলতা পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত।
ব্যবসা যেমন আপনাকে ধনী করবে ঠিক তেমনি করে দিতে পারে সর্বশান্তও। কেননা ব্যবসায় উন্নতি করতে হলে ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে হবে। সাফল্যের বিশাল সিঁড়ি পাড় করতে গেলে হোচট খেতেই হবে, আসবে নানা বাধা-বিপত্তি আর সেসব বাধা কাটিয়ে সাফল্যের করিডরে পৌঁছানোর জন্য রপ্তকরা চাই কিছু কৌশল। যে কৌশল আপনার ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করে সাফল্যের চরম শিখড়ে পৌঁছে দেবে। নিচের কৌশলগুলো অবলম্বনে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন সফল ব্যবসায়ী।
গোছানো থাকুন : একজন অগোছালো মানুষ কখনোই জীবনে উন্নতি সাধন করতে পারেন না। তাই একজন ব্যবসায়ী যদি অগোছালো হয় তাহলে তার ব্যবসায় সাফল্য কখনোই আসবে না। কেননা ব্যবসা এমন একটি বিষয় যেখানে ফাঁকিবাজি কোনো স্থান নেই। ফাঁকিবাজ আপনাকে ব্যর্থতার রাস্তায় প্রেরণ করবে। অপর দিকে আপনি যদি গোছানো এবং একজন পরিপাটি মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে এই অভ্যাসটি আপনাকে সফলতার বিশাল সিঁড়ির একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া গোছানো থাকলে সময়ের অপচয় কম হয় আর সেই সময়টুকু কাজে ব্যাবহার করলে কাজের উন্নতি সাধন হবে।
প্রতিটি জিনিসের বিবরণ রাখুন : প্রতিটি সফল ব্যবসায়ীরাই তাদের প্রতিটি জিনিসের বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষণ করে। কেননা ব্যবসা করতে হলে বেহিসাবি হলে একদমই চলবে না। তাহলে ব্যবসায় ধস নামতে পারে। ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি জিনিসের হিসেব না মেলাতে পারলেই বিরাট সমস্যা দেখা দেয়। এবং এভাবে চলতে থাকলে লাভের থেকে ক্ষতির মুখই বেশি দেখতে হবে। তাই প্রতিটি জিনিসের বিস্তারিত বিবরণ রাখার আপ্রান চেষ্টা করতে হবে এতে করে প্রত্যেকটি মালামালের যেমন হিসেব আপনার কাছে থাকবে ঠিক তেমনি আপনি আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এবং সামনে কি কি চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা জানতে পারবেন।
প্রতিযোগিতাকে চিহ্নিত করুন: প্রতিযোগিতা আপনার মস্তিষ্ককে বিপুল পরিমাণে সক্রিয় করে তোলে। যার ফলে কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ হয়। আমরা সাধারণত সকলেই জানি প্রতিযোগিতা ভালো ফলাফল বয়ে আনে। তাই ব্যবসায় সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে। এবং এর সাথে সাথে আপনাকে অবশ্যই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বিদের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে।
ঝুঁকি এবং ফলাফল হিসেব করুন: একটি ব্যবসার সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে, ক্যাকুলেটেড রিস্ক বা হিসেব করে ঝুঁকি নেওয়ার উপর। কেননা ব্যবসা এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে প্রতিনিয়ত আপনাকে রিস্ক নিতে হয়। প্রতিটি পদক্ষেপেই আপনাকে রিস্ক অথবা রিস্কি ডিসিশনের সম্মুখীন হতে হবে এবং এটাই বাস্তব। প্রতিটি ব্যবসায়ীরাই রিস্ক নিয়ে থাকেন, কিন্তু সফল ব্যবসায়ীরা রিস্ক নেয়ার সাথে সাথে তার ভবিষ্যৎ ফলাফল ও কষে ফেলে আর সে কারনেই তারা আজ সফল ব্যবসায়ী। তাই ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে হলে আপনাকেও এই কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
সৃজনশীল হোন: যুগের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা, চিন্তাভাবনার ধরন ও পরিবর্তীত হয়েছে। তাই ব্যবসাও আর সেকেলে নেই। প্রতিনিয়তই বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আসছে নানা ধরনের নতুন নতুন আইডিয়া আর তৈরী হচ্ছে নানান সৃষ্টিশীলতা। তাই এই ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে ব্যবসা সফল হতে হলে আপনাকেও সৃজনশীল হতে হবে। তা নাহলে হোচট খেয়ে আপনাকেও ব্যর্থতার তকমা কপালে লেপতে হবে। তাই আপনার ব্যবসাকে উন্নত করার জন্যে প্রতিনিয়ত নতুন পন্থা অবলম্বন করুন যাতে করে আপনার এই পন্থা অন্য সবার প্রতিযোগিতার বাহিরে থাকে। সবকিছুই আপনি জানেন না সেটা মেনে নিন এবং নিত্যনতুন আইডিয়া বা পরিকল্পনা এবং নতুন পন্থাকে গ্রহন করার জন্যে প্রস্তুত থাকুন।
ফোকাস বা একনিষ্ঠ থাকুন: একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘রোম একদিনে হয়নি’ এই প্রবাদটি এই ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। আপনি একটি ব্যবসা আরম্ভ করেছেন এর মানে এই নয় যে আপনি রাতারাতি টাকা উপার্জন শুরু করে দিবেন। আপনি কে আপনার ব্যবসা কেমন তা জানতে লোকজনের সময় লাগে। তাই আপনি আপনার ব্যবসার স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে একনিষ্ঠ থাকুন এবং বাকিটা ব্যবসার নিজস্ব গতির উপর ছেড়ে দিন।
উন্নত মানের সেবা প্রদান করুন: উন্নত মানের সেবা যেমন আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম বয়ে আনবে ঠিক তেমনি আপনাকে সাফল্যের করিডোরে পৌঁছানোর জন্যে সাহায্য করবে। এটা একটি পরিক্ষিত কৌশল। অনেক সফল ব্যবসায়ী আছেন যারা ভুলে যান যে, কাস্টমারকে উন্নত মানের সেবা প্রদান অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি কাস্টমারদের উন্নত সেবা প্রদান করেন তবে তারা পরেরবার আপনার কাছে আসবে যেটা আপনার পন্যকে ক্রেতাদের মাঝে জনপ্রিয় করবে। কিন্তু আপনি যদি নিম্নমানের সেবা প্রদান করেন তাহলে কাষ্টমারদের আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিরূপ ধারনা প্রশমিত হবে এবং যেটা আপনার জন্য বিরাট ক্ষতি সরূপ।
ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন: ব্যবসায় সফলতা দীর্ঘায়ু করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিতার বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। ধারাবাহিকভাবে আপনাকে আপনার কর্মপরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়ন করে যেতে হবে। যেটা আপনাকে ক্রেতাদের মাঝে বিশ্বস্ত করে তুলবে এবং আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যাবে। অন্য দিকে ধারাবাহিকতা বজায় না রাখলে ক্রেতাসাধারণ আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে আপনার কপালে ব্যর্থতার তিলক লাগিয়ে দেবে। তাই ব্যবসায় সফল হতে হলে ধারাবাহিতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
তারেক/