আমরা সবাই কর্মক্ষেত্রে নির্ঝঞ্ঝাট আর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ চাই। কিন্তু আমাদের জীবনের চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার মিল থাকবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু তারপরও অফিসকে আমরা সাধারণত একটি কাজের জায়গা হিসেবেই ভাবি। যারা অফিস করেন তাদের জীবন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা- এমন রুটিনেই যেন সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাস্তবতা অন্য রকম। অফিস মানে শুধু কাজ নয়, বরং সম্পর্ক, প্রতিযোগিতা, গসিপ, দ্বন্দ্ব আর অনেক সময় অপ্রকাশ্য টানাপোড়েন। এই অদৃশ্য খেলাকেই আমরা বলি অফিস পলিটিক্স।
যারা এ খেলায় দক্ষ, তারা মাঝে মাঝে যোগ্যতার চেয়ে চালাকিতে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে যারা শুধু নিজের কাজে মন দেন, তাদের যাত্রা হয়ে ওঠে কণ্টকাকীর্ণ। দৃশ্যত, মনে হতে পারে এ অফিস পলিটিক্সের কারণে অনেকে চাকরিতে সুবিধাজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আবার অনেকে অন্যের পলিটিক্সের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ পলিটিক্সের কারণে অনেকের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানেরও এতে ক্ষতির পরিমাণ কম নয়।
অফিস পলিটিক্স থেকে নিজেকে দূরে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এর থেকে দূরে থাকা এত সহজ না। তাই ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত আপনাকে এর সঙ্গে নিজেকে জড়াতে হচ্ছে। অফিস পলিটিক্সে জড়ালেও সেটি যেন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিত্বের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যায় সেই প্রচেষ্টা করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে এর সুফল লাভ করতে হবে।
অফিস পলিটিক্স এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কিছু অভ্যাস ও কৌশল গড়ে তুললে আপনি সহজেই এই চাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। অফিস পলিটিক্স এড়ানোর কিছু কৌশল নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো-
নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করুন
আপনি শত চেষ্টা করলেও অফিস পলিটিক্সের শিকার হতেই পারেন। তিনি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আপনাকেই। আর তাই আগে খেলার ধরনটা বোঝার চেষ্টা করুন। কারা কারা আপনাকে নিয়ে ভাবছে বা বলছে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। অফিসে খুব কঠোর থাকবেন না আবার খুব নরমও না। আপনি যে কাজ করছেন তার যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনার ভালো কাজের ক্রেডিট অন্য কেউ নিয়ে যাচ্ছে কি না সেদিকেও নজর দিন। আপনার ভালো কাজ আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে তাও নিশ্চিত করুন।
নিজের কাজের ফোকাস করুন
একটা বিষয় সত্য যে, যে যাই করুক না কেন, কর্মক্ষেত্রে একজনের পারফরম্যান্সই তাকে অফিসে টিকিয়ে রাখে। তাই আপনি আপনার নিজের কাজে হয়ে উঠুন সেরা। যেন কেউ শত রাজনৈতিক আর কূটনৈতিক মারপ্যাঁচে ফেললেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন আপনার সঙ্গে থাকে। কারণ তারা জানে যে, ওই কাজে আপনি সেরা।
স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখুন
যোগাযোগ এমন একটি বিষয় যা ক্যারিয়ারে আপনাকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে পারে। তাই ভালো যোগাযোগ রক্ষা করুন। পাশাপাশি যোগাযোগ স্থাপনেও হোন দক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেই যে আপনি তাদের মাধ্যমে উপকৃত হবে বিষয়টা কিন্তু এমন না। আপনার লৈখিক ও মৌখিক কথাবার্তা হতে হবে বেশ স্মার্ট। অন্যদের মাঝে একটি ভীতি থাকতে হবে যে, যদি আপনি মুখ খোলেন বা কিছু লেখেন তাহলে তা চুপ করিয়ে দিতে পারে অনেককেই।
প্রফেশনাল আচরণ বজায় রাখুন
অফিসে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে অনেকের সঙ্গেই আপনার সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। দাপ্তরিক সম্পর্ক ব্যক্তিগত পর্যায়েও যেতে পারে। তবে অফিশিয়াল কাজের বিষয়ে কারও ওপর ভরসা করবেন না। বিশ্বাস করবেন না কাউকে। কারণ যদি কোথাও কোনো গলদ থেকে যায় তাহলে দিন শেষে তার দায়ভার নিতে হবে আপনাকে একাই। তাই অফিশিয়াল কাজে এই ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখুন। নিজের কাজ নিজে করুন। অন্যের ভরসায় থাকবেন না।
কোম্পানির গুণ এবং পলিসি বোঝার চেষ্টা করুন
আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। সেই প্রতিষ্ঠানের পলিসি বোঝার চেষ্টা করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন এবং নিজেকে অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করুন। নিজের প্রতি আস্থা রাখুন। নিজের কাজ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করুন। কর্মক্ষেত্রে থাকুন আত্মবিশ্বাসী আর নির্ভয়।
অনেকেই অফিসে নিজের অবস্থান ভালো করার জন্য সচেতনভাবে অন্যের বিরুদ্ধে পলিটিক্স করে। সচেতনভাবে হোক কিংবা অসচেতনভাবেই হোক কারও বিরুদ্ধেই পলিটিক্স করা যাবে না, কারণ মাথায় রাখতে হবে নোংরা পলিটিক্স করে বড় হওয়া যাবে না। নিজের পলিটিক্সের জালে নিজেকেই জড়াতে হবে।
তারেক/