বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ইন্টারনেট গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত নানা কাজেই আমরা ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করি। দিন দিন এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। এক সময় বিজ্ঞাপনের জন্য বিলবোর্ড বা পত্রিকার ওপর বেশি নির্ভরতা থাকলেও এখন মানুষ অনেক বেশি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে অনলাইন বিজ্ঞাপনে।
ফেসবুক বা ইউটিউব ব্যবহার করার সময় প্রায়ই সামনে চলে আসে বিভিন্ন পণ্য বা শপিং সাইটের বিজ্ঞাপন। আপনি কী কিনতে পারেন, কী পড়তে ভালো লাগতে পারে কিংবা কোন বিষয় আপনার আগ্রহের— এসব বিষয়ে ধারণা দেয় সেই ওয়েবসাইটের লেখা বা কনটেন্ট। তাই লেখালেখির প্রতি আগ্রহ থাকলে এই দক্ষতাকেই পেশায় রূপ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কনটেন্ট রাইটিং হতে পারে আপনার জন্য একটি সম্ভাবনাময় পেশা।
অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় ও দ্রুত এগিয়ে যাওয়া একটি কাজের ক্ষেত্র হলো লেখালেখি। যেটিকে আমরা আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং অথবা কনটেন্ট ডেভেলপিং বলে থাকি। যারা ইংরেজিতে ভালো, তারা লেখালেখিকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন। আয় করতে পারেন হাজার ডলার। তাই স্মার্ট ক্যারিয়ার হিসেবে অবশ্যই আর্টিকেল রাইটিং একটি যথার্থ হতে পারে।
আর্টিকেল রাইটিংকে পেশা হিসেবে নিতে আপনাকে অবশ্যই বেশ কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। প্রথমত, আপনাকে অবশ্যই ইংরেজি বানান এবং ব্যাকরণ সঠিকভাবে জানা থাকতে হবে। কমপ্লেক্স ও কম্পাউন্ড বাক্য ঠিকভাবে লেখার যোগ্যতা থাকতে হবে। আপনাকে ব্রিটিশ ও আমেরিকান ইংরেজি সম্পর্কে ধ্যান-ধারণা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনি যে বিষয়ে লেখালেখি করতে চান, সে বিষয় সম্পর্কে বিস্তর ধারণা থাকতে হবে।
লেখার ধরন
বিষয়ভিত্তিক যেকোনো লেখালেখিই হলো কনটেন্ট রাইটিং। কনটেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন কাজের জন্য কনটেন্ট লিখে থাকেন। তবে সেটি যদি ওয়েবের জন্য লেখা হয়, তা হলে সেটিকে ওয়েব কনটেন্ট হিসেবে বিবেচিত করা হয়। এ ছাড়াও ট্রান্সলেশন, ট্রান্সক্রিপশন, সামারাইজেশন, রিজিউম রাইটিং, প্রেস রিলিজ রাইটিং ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের কাজ করতে পারেন।
আয়ের ধরন
আয়ের ধরনের ওপর নির্ভর করে কনটেন্ট রাইটিংকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো কম আয়ের ও আরেকটি বেশি আয়ের কনটেন্ট রাইটিং। কম আয়ের কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজ মূলত যারা এই পেশায় নতুন বা অপেক্ষাকৃত দক্ষতা কম তারা করে থাকেন। এক্ষেত্রে আপনাকে আর্টিকেল রি-রাইটিং বা কম শব্দের কনটেন্ট লিখতে হবে। তাই আয়ের পরিমাণও কম। এ ধরনের আর্টিকেলের ক্ষেত্রে আপনি ঘণ্টায় ১ থেকে ৩ ডলার চার্জ করতে পারেন। আর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে কাজটি মূলত অপেক্ষাকৃত বেশি শব্দের কনটেন্ট লেখা, প্রুফরিডিং বা এডিটিং বিষয়টি জড়িত। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ভালো দক্ষতাসম্পন্ন হতে হবে। এখানে অবশ্যই আপনার লেখাকে মৌলিক হতে হবে। এ ধরনের আর্টিকেলের ক্ষেত্রে আপনি ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ ডলার চার্জ করতে পারেন।
কীভাবে লিখবেন
লেখা অবশ্যই প্রাঞ্জল ও গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে। আপনার লেখা যেকোনো কোনো এডিটর কোনো অংশ ফেলতে না পারেন বা একজন পাঠকের কাছে অবাঞ্ছিত না মনে হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। একজন পাঠক সব সময়ই মৌলিক কিছু প্রত্যাশা করেন। তাই তথ্যনির্ভর, সংক্ষিপ্ত বিষয়ভিত্তিক লেখাই আপনাকে লিখতে হবে। এতে লেখক হিসেবে আপনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বাড়বে তেমনি উপার্জনের পথও প্রশস্ত হবে।
কাজের যোগ্যতা
আগেই বলেছি, কনটেন্ট রাইটার হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে ভালো হতে হবে। প্রয়োজন শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে এমএস ওয়ার্ডের স্পেলিং চেকারের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। টাইপিংয়ের কাজ যত দ্রুত ও ইন্টারনেট ব্যবহারে ভালো হতে হবে। আর ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য প্রয়োজনীয় যে বিষয়গুলো রয়েছে যেমন ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়, কাভার লেটার লেখা, আপডেটেড থাকা এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তারেক/