ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমছে মুক্তিযোদ্ধাসহ যাদের ভাতা বাড়বে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত আনচেলত্তির জন্মদিন আর ব্রাজিলের জন্মদিন, কিছুতেই নেই নেইমার আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর শেরপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের মিলনমেলা ও আনন্দ র‍্যালি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ৬০ নিত্যপণ্যে করছাড় অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা স্টার সিনেপ্লেক্সে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা প্রেমে পড়েছেন প্রভা! শাহরুখ খানের শুটিং সেটে সুমাইয়া শিমুর ক্যারিয়ারের শুরু দর্শকদের প্রতি শুভকামনা থাকল ‘মালিক’ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন আরিফিন শুভ চুয়াডাঙ্গায় অপরিচ্ছন্নতা ও অবৈধ লোগো ব্যবহারে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ ডিসি অফিস চত্বরে হামলার শিকার সেই সমন্বয়ক মাহাদী ইউসিবির মূলধন দ্বিগুণ, ৪৩তম এজিএম সম্পন্ন কাশিয়ানীতে মোড়ের নাম রাখা হলো ‘ব্রাজিল মোড়’ গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম সংসদে বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু ভাঙ্গায় পরীক্ষাকেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মারধর, এনসিপি নেতা আটক জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটিতে আঘাতের দাবি ইরানি গার্ডের যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত ফিফার আপত্তির মুখে হাইতির বিশ্বকাপ জার্সিতে পরিবর্তন
Nagad desktop

হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!
ছবি: সংগৃহীত

এক আশ্চর্যজনক সহজাত অনুভূতি পায়রাদের বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রাণীরা দিকনির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। কেউ নক্ষত্র অনুসরণ করে, কেউ গুরুত্বপূর্ণ স্থানচিহ্ন মনে রাখে। পাখি, মাছ ও কচ্ছপ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে এক ধরনের কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান ও দিক নির্ধারণ করে। তবে তারা ঠিক কীভাবে এটি করে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

পায়রা এমন একটি সুপরিচিত পাখি, যা এক দিনে শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ সংবাদ, বার্তা ও সামরিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এদের ব্যবহার করে আসছেন।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন যে, পায়রা কীভাবে পথ না হারিয়ে নির্ভুলভাবে চলাচল করে। কেউ মনে করেন, তাদের চোখের আলোক-সংবেদনশীল অণুগুলো চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। আবার অন্যদের মতে, এই প্রক্রিয়া ঘটে ঠোঁট বা অন্তঃকর্ণে।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়রের গবেষক মার্টিন উইকেলস্কি বলেছেন, ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি প্রায় ১০০ বছর ধরে একটি রহস্য হয়ে রয়েছে’।

নতুন এক গবেষণায় উইকেলস্কি ও তার সহকর্মীরা পায়রার দিকনির্ণয়ের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেন। তারা পাখিটির শরীরে চৌম্বকীয় সংকেতের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত স্থানে- যকৃতে শক্তিশালী সংকেতের সন্ধান পান।

গবেষকদের মতে, পায়রার যকৃতে থাকা বিশেষায়িত রোগপ্রতিরোধী কোষ লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে ফেলে এবং লোহা সঞ্চয় করে।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিশ্চিয়ান কার্টস জানান, বিজ্ঞানীরা যখন সাময়িকভাবে ওই কোষগুলো নিষ্ক্রিয় করে পায়রাগুলোকে উড়তে দেন, তখন তারা কার্যত পথ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।

কার্টস বলেন, ‘পাখিগুলো কোনোভাবেই পথ খুঁজে পাচ্ছিল না’।

এ পর্যবেক্ষণ থেকে গবেষকদের ধারণা, লোহাসমৃদ্ধ যকৃতের এসব কোষ পায়রার দিকনির্ণয় ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে পাখিদের এই চৌম্বকীয় কম্পাস সব সময় সমানভাবে কাজ করে না। মেঘলা দিনে তা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। 

গবেষকদের মতে, এর কারণ হলো পাখিরা দিকনির্ণয়ের জন্য সূর্যের অবস্থানকেও ব্যবহার করে।

বিজ্ঞানীরা আগেও ধারণা করেছিলেন যে, রোগপ্রতিরোধী কোষ চৌম্বকীয় সংবেদনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণাটি এ বিষয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব উপস্থাপন করেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া ম্যাসাচুসেটস বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণগত বাস্তুবিদ আলবার্ট কাও বলেন, ‘আমি কখনোই এটি অনুমান করতে পারতাম না। কিন্তু ব্যাখ্যাটি শোনার পর তা যথেষ্ট যৌক্তিক মনে হয়েছে।’

গবেষকদের মতে, যকৃতের এসব রোগপ্রতিরোধী কোষ স্নায়ুতন্তুর খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক ক্লিভিয়া লিসোস্কি বলেন, ‘‘সম্ভবত এভাবেই তারা তাদের ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি’ মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং পায়রাদের দিকনির্ণয়ে সহায়তা করে”।

গবেষকরা মনে করছেন, পাখি ছাড়াও ইঁদুরের মতো অন্যান্য প্রাণীও একই ধরনের চৌম্বকীয় ‘জিপিএস’ ব্যবহার করতে পারে। 

তবে বাইরের বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়রারা সত্যিই এভাবেই দিকনির্ণয় করে কি না এবং সংকেতগুলো কীভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণায় পায়রার যকৃতে সবচেয়ে শক্তিশালী চৌম্বকীয় সংকেত পাওয়া গেলেও একই ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষ ঠোঁট, প্লীহাসহ শরীরের অন্যান্য অংশেও রয়েছে।

পশুচিকিৎসাবিষয়ক রোগ বিশেষজ্ঞ সাইমন স্পিরো এবং জীববিজ্ঞানী হ্যাল ড্রেকস্মিথ এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছেন, এই চৌম্বকীয় ধাঁধার সম্ভবত একক কোনো উত্তর নেই। 

তাদের মতে, পাখিরা কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পদ্ধতিতে চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্ত করতে পারে- সেটি দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ হোক কিংবা নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য খুঁজে বের করার প্রয়োজন হোক।

তারা লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, অন্ধকারে বাড়ি ফেরার একাধিক উপায় থাকা বিচক্ষণতার পরিচায়ক হতে পারে’। সূত্র: এপি

অমিয়/

বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ
প্রতীকী ছবি

ডেটে গিয়ে এক তরুণীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ানোর পর সেই খরচ ‘উসুল’ করার জন্য যৌন সুবিধা চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের গুরুগ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু জাংরা। 

একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শোতে দেওয়া তার সেই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চাকরি হারাতে হয়েছে তাকে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমাংশু কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের একটি অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শো চলাকালে প্রণীতের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি নিজের একটি ডেটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

হিমাংশুর দাবি, তিনি এক তরুণীকে নিয়ে ডেটে গিয়েছিলেন এবং দুজনে প্রায় ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। রাতের খাবারের পর ওই তরুণী যখন তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তখন তিনি নাকি বলেন যে খাবারের জন্য খরচ হওয়া ৩৭০ টাকা ‘উসুল’ করতে চান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বললাম, যে ৩৭০ টাকা খরচ হয়েছে, সেটা তো উসুল করবই।’

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হিমাংশু। অনেকেই তার মন্তব্যকে নারীর প্রতি অসম্মানজনক ও আপত্তিকর বলে আখ্যা দেন।

জানা গেছে, হিমাংশু ‘স্টারভিক ডিজাইন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

হিমাংশুর বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একাংশ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।

এ ঘটনার পর স্টারভিক ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা বিবেক বিশ্বকর্মা একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা হিমাংশুকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছি। ভুলের পরিণতি ভোগ করতেই হয়। তবে আমরা আশা করি, এই ধরনের ঘটনা আত্মসমালোচনা, শিক্ষা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করবে। পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে, হিমাংশু তার মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরও। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অমিয়/

ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’
ইংজি। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার ভিন্ন ফ্যাশন সচেতনতা, তারুণ্যদীপ্ত মনোভাব এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

সাদা চুল এবং চমৎকার শারীরিক গঠনের অধিকারী এই প্রবীণ নারীর নাম ইংজি (Yingzi)। নেটিজেনরা তাকে ভালোবেসে 'তরুণী দাদী' (গার্লিস গ্রেন্ডমা) বলে ডাকছেন।

হাই হিল পরে শহরের রাস্তায় তার নাচ ও ক্যাটওয়াকের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ ফলোয়ার অর্জন করেছে এবং এগুলোর ভিউ ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

ইংজি জানান, তার চিরসবুজ অবয়বের মূল রহস্য হলো নিজের স্টাইল ধরে রাখা। তিনি তরুণদের পছন্দের রঙচঙে পোশাক থেকে শুরু করে পপ, পাংক এবং গার্ল-গ্রুপ ফ্যাশনের পোশাকও দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরেন।

শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা যোগব্যায়াম করেন এবং বিকেল ৫টার পর আর কোনো খাবার খান না।

আশির দশকে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে জাপানে থাকার সময় তিনি একটি রেস্তোরাঁ চালাতেন, যেখানে তার সৌন্দর্যের কারণে একটি সুপরিচিত জাপানি ম্যাগাজিনেও তার ছবি ছাপা হয়েছিল।

পরবর্তীতে চীনে ফিরে 'রিয়েল এস্টেট' ব্যবসায় সফল হয়ে তিনি নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেন এবং দাতব্য সংস্থায় লাখ লাখ ইউয়ান দান করেন।

৭০ বছর বয়সে তিনি প্রবীণ নারীদের একটি ফ্যাশন গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপটি নারীদের মনে সাহস জোগাতে, বয়সকে জয় করার পরামর্শ দিতে এবং পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

সম্প্রতি তিনি সাংহাই ডিজনিল্যান্ডের একটি ফ্যাশন শোতে হেঁটে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

ইংজির মতে, বয়স কোনো বাধা নয়, বরং একটি সম্পদ। তিনি ১২০ বছর বয়স পর্যন্ত এভাবেই সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তার এই ভিন্ন ধারার জীবনযাত্রা প্রবীণদের নিয়ে প্রচলিত সমাজিক ধারণা ভেঙে নতুন প্রজন্মকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আজহার/অমিয়/

পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
ছবি: এআই

চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষা ‘গাওকাও’ সামনে রেখে বহু শিক্ষার্থী হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, অক্সিজেন থেরাপি মস্তিষ্ককে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং পরীক্ষাজনিত উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

গাওকাও হলো চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, যা প্রতি বছর ৬ থেকে ৮ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। 

দেশটিতে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়, কারণ এর ফলাফলই মূলত নির্ধারণ করে দেয় একজন শিক্ষার্থী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাওকাও পরীক্ষার্থীদের জন্য অক্সিজেন থেরাপির উপকারিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, এই থেরাপি ঘুমের মান উন্নত করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত হাসপাতালের হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বারে পরিচালিত এই চিকিৎসা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পূর্ব চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইয়ংফেং কাউন্টি পিপলস হাসপাতাল গত ২৩ মে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে এই সেবা চালু করে। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এই সেবা নিয়েছেন।

৯০ মিনিটের একটি সেশনের জন্য খরচ পড়ে ৯৬ ইউয়ান (প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেবাটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তাদেরও বিস্মিত করেছে।

হাসপাতালের হাইপারবারিক চেম্বার মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক দাই ফানবিং বলেন, উচ্চ ঘনত্বের অক্সিজেন গ্রহণের ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার বা মেরামতে সহায়তা করতে পারে। সাধারণত রক্ত সঞ্চালন বা অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত রোগের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরের হুয়াক্সি নং-৪ হাসপাতালও কয়েক বছর ধরে গাওকাও পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেবা দিয়ে আসছে।

এক শিক্ষার্থী জানায়, অক্সিজেন থেরাপি নেওয়ার পর তার ঘুম ভালো হচ্ছে এবং দিনের বেলায় মনোযোগও বেড়েছে।

এক অভিভাবক বলেন, তার সন্তান চার বার এই থেরাপি নিয়েছে এবং এর ফলাফলে সন্তুষ্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী হাইপারবারিক চেম্বারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে লিখেছেন, ‘চেম্বারের ভেতর ছিল একদম শান্ত। শুধু নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ি। বের হওয়ার পর মনে হয়েছে, যেন আমার মস্তিষ্ক নতুন করে চালু হয়েছে এবং চিন্তাভাবনা আরও পরিষ্কার হয়েছে।’

তবে চিকিৎসক দাই ফানবিং সতর্ক করে বলেছেন, হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি সবার জন্য উপযোগী নয় এবং এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তিনি জানান, এমফাইসিমা, টিম্পানাইটিস এবং গুরুতর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই থেরাপি উপযুক্ত নয়।

দাই আরও বলেন, ‘এই প্রবণতার বিষয়ে আমি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গাওকাও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অক্সিজেন থেরাপিকে এক ধরনের জাদুকরী সমাধান হিসেবে দেখছেন, যা বাস্তবসম্মত নয়।’

জিয়াংসি প্রদেশের মনোবিজ্ঞানী উ পেইশুয়ে বলেন, পরীক্ষার চাপ কমানোর জন্য আরও সহজ ও বৈজ্ঞানিক উপায় রয়েছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, রোদে সময় কাটানো এবং ব্যক্তিগত শখ চর্চা উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, ‘গাওকাও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তথাকথিত অলৌকিক সমাধানের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস না রাখাই ভালো। এসব বিষয় অনেক সময় কেবল প্ল্যাসিবো প্রভাব সৃষ্টি করে। বাহ্যিক উপায়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অধিক কার্যকর।’ সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

অমিয়/

এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য
ছবি: প্রতীকী

বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস এবং মের্ক-এর তৈরি এইচআইভির নতুন ওষুধ তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

এই চিকিৎসাপদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এটি প্রতিদিন সেবন করতে হবে না; সপ্তাহে মাত্র এক বার খেলেই চলবে।

ওষুধটি কীভাবে কাজ করে?

নতুন ট্যাবলেটটিতে মের্কের তৈরি আইসল্যাট্রাভির এবং গিলিয়াডের তৈরি লেনাক্যাপাভিরের উপাদানকে সমন্বয় রয়েছে। এটি এইচআইভি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির বিভিন্ন ধাপকে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে। ফলে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভাইরোলজিক্যালি সাপ্রেসড’ হিসেবে পরিচিত।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, টানা ৪৮ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য এই ট্যাবলেট রোগীদের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। বর্তমানে বাজারে থাকা প্রতিদিন সেবনযোগ্য জনপ্রিয় ওষুধগুলো শরীরকে যতটুকু সুরক্ষা দেয়, সপ্তাহে মাত্র একটি ট্যাবলেটও ঠিক ততটুকুই কার্যকর ও শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ সেবন করতে হয়। অনেক সময় ওষুধ খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়া বা প্রতিদিন ওষুধ সেবনের কারণে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

গিলিয়াড সায়েন্সেসের কর্মকর্তা ড. জ্যারেড বেটেন বলেন, সপ্তাহে মাত্র এক বার ওষুধ সেবনের এই সুবিধা এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি তাদের জীবনযাত্রায় আরও বেশি স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

ওষুধটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ট্রায়ালের সব তথ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে এটিই হবে এইচআইভি চিকিৎসায় বিশ্বের প্রথম সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য ওষুধ। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ
প্রতীকী ছবি

নতুন পরীক্ষামূলক ওজন কমানোর ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এটি বিক্রি করা অবৈধ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক আইন অমান্য করেই রোগীদের এই ওষুধ দিতে শুরু করেন।

রেটাট্রুটাইড এলি লিলি কোম্পানির তৈরি একটি ওষুধ। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি ওজেম্পিক বা মাউঞ্জারোর চেয়েও দ্রুত এবং বেশি (প্রায় ২৮ শতাংশ) ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সমস্যা হলো, এফডিএ এখনও যাচাই করে দেখেনি যে, ওষুধটি মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ ও কার্যকর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এই ওষুধের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধটি অনুমোদন পাবেই। তাই রোগীদের দ্রুত উপকার করার উদ্দেশ্যে তারা এখনই এটির পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেক ওষুধের দোকান ও ক্লিনিক এটিকে ‘গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য’ বলে লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করছে, যাতে আইন এড়িয়ে যাওয়া যায়। সঠিক নিয়ম ও তদারকি ছাড়া ইন্টারনেট বা অননুমোদিত ক্লিনিক থেকে এই ওষুধ কিনে ব্যবহার করায় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে এই ওষুধ-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই মারাত্মক বমি, তীব্র ডায়রিয়া, পেটে শক্ত চাকা তৈরি হওয়া এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

এফডিএ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে এই অবৈধ বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলি লিলি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এই ওষুধ বিক্রি করা বেআইনি। সূত্র: সিবিএস নিউজ

তামান্না রুপা/অমিয়/