দেশীয় নাটকের জনপ্রিয় মুখ জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তার প্রজন্মের দর্শক যারা তার অভিনয়ের নিয়মিত ভক্ত ছিলেন। এখনো তারা তার নতুন নাটক, ওয়েব ফিল্ম কিংবা ওয়েব সিরিজের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। অপূর্ব তার নিজের মেধা, যোগ্যতা, শ্রম দিয়ে তার মতো করেই এগিয়ে যাচ্ছেন, নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
অপূর্ব সহশিল্পীদের কাছে যেমন ভীষণ প্রিয় ও আস্থার, ঠিক তেমনি দর্শকের কাছেও ভীষণ ভালো লাগার। এই অভিনেতা তার সিনিয়র, জুনিয়র সব শিল্পীর কাছেই পরম ভালো লাগার। অপূর্বর সঙ্গে নাটকে কিংবা ওয়েবে কাজ করার জন্য শিল্পীরাও প্রতীক্ষায় থাকেন। অপূর্ব সব সময়ই তার সহশিল্পীদের প্রতি ভীষণ সহযোগিতাপরায়ণ।
জনপ্রিয় এই অভিনেতা অভিনয়জীবনের চলার পথে দেখতে দেখতে দুই দশক পার করলেন। আজ থেকে দুই দশক আগে, অর্থাৎ ২০০৬ সালে গাজী রাকায়েতের নির্দেশনায় ‘বৈবাহিক’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অপূর্বর অভিনয়জীবন শুরু। তবে ২০০২ সালে ‘ইউ গট দ্য লুকস’ প্রতিযোগিতায় ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খ্যাতি লাভ করেন।
অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন। নাটকে তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে আলোচিত দর্শকপ্রিয় নাটক হচ্ছে মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘বড় ছেলে’। ‘বড় ছেলে’ নাটকে তার অভিনয়ই দেশে-বিদেশে অবিশ্বাস্য রকম সাড়া ফেলে। নাটকে তার বিপরীতে ছিলেন মেহজাবীন চৌধুরী। এর আগে-পরে বহু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘কথা ছিল অন্য রকম’, ‘রমিজের আয়না’, ‘অ্যাক্স ফ্যাক্টর’, ‘ব্যাকডেটেড’, ‘ভালোবাসার চতুষ্কোণ’, ‘ব্যাচ টোয়েন্টি সেভেন’, ‘বিয়ের বয়স বারো’, ‘উত্তম কুমার সুচিত্রা সেন’, ‘ব্ল্যাক কফি’, ‘সবার ওপরে মা’, ‘লেক ড্রাইভ লেন’, ‘জলে তার ছায়া’, ‘বিনি সুতোর টান’, ‘পাশের বাসার ছেলেটা’, ‘উড়ছি তোমার প্রেমে’, ‘নতুন করে শুরু’, ‘স্বপ্ন দেখার দিনগুলো’, ‘সে ভালোবেসেছিল’, ‘ইট কাঠের খাঁচা’, ‘বাক্সবদল’, ‘মন দরিয়া’, ‘পথে হলো দেরি’,‘ মন দুয়ারী’ ইত্যাদি।
অপূর্বর প্রথম সিনেমা আশকুর রহমান পরিচালিত ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’। এরপর তার আলোচিত ওয়েবফিল্ম ‘মায়া শালিকত’ ও ‘যদি কিন্তু তবুও’। আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘বুকের মধ্যে আগুন’ ও ‘গোলাম মামুন’। ব্যক্তিজীবনে অপূর্ব এক পুত্রসন্তান ও এক কন্যাসন্তানের বাবা। তার বাবা বেশ কয়েক বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। তার মায়ের আশীর্বাদের ছায়াতলে আছেন তিনি।
দেশের বহু খ্যাতনাম সংগঠন থেকে তিনি বহুবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন অপূর্ব। সেখান থেকে মুঠোফোনে অপূর্ব বলেন, ‘মহান আল্লাহর প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন, ভালো রেখেছেন এবং আমার পিতা-মাতার প্রতিও কৃতজ্ঞতা। কারণ তারা আমাকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা বাংলা ভাষাভাষী সব দর্শকের প্রতি, যারা দশকের পর দশক আমার অভিনয় উপভোগ করছেন, আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। কৃতজ্ঞতা আমার সব সহশিল্পী, সব কাজের প্রযোজক, পরিচালক, নাট্যকার, সিনেমাটোগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট, শিল্প নির্দেশকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি। কৃতজ্ঞতা গণমাধ্যমের প্রতি, কারণ আমার সুখে-দুঃখে তাদের পাশে পেয়েছি। আগামীতে আরও ভালো ভালো কাজ করারই প্রতিশ্রুতি আমার। সবার দোয়া চাই।’
/আবরার জাহিন