শৈশব মানেই নির্ভার খেলা, রঙিন স্বপ্ন আর পরিবারের সবার চোখের মণি হয়ে বড় হয়ে ওঠা। কিন্তু ছয় বছরের ফুটফুটে শিশু আমেনা আক্তার ফিদার সেই শৈশবের হাসি-কান্না বন্দী হাসপাতাল আর বাড়ির সীমানায়। আজ যখন তার স্কুলে যাওয়ার, বই খাতার গন্ধে মন ভরানোর বয়স তখন ফিদার প্রতিটি দিন কাটছে অসহনীয় কষ্টে। চার বছরের কোমল বয়সে তার কঁচি শরীরে বাসা বাঁধে মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার। দুই বছর ধরে থেরাপিতে কিছুটা সুস্থতার পথে এগোলেও অর্থের অভাবে থেমে যাচ্ছে ছোট্ট ফিদার ক্যান্সার চিকিৎসা।
নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চরকৈলাশ গ্রামের সাইকেল মেকানিক আজমির হোসেনের ঘরে জন্ম নেওয়া ফিদা ছিল পরিবারের সবার প্রাণ। হঠাৎ পেটব্যথা আর জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে জেলা সদর হাসপাতাল, পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে অসংখ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশেষে পিজি হাসপাতালে বোন ম্যারো (অস্থি মজ্জা) টেস্টে ধরা পড়ে ব্লাড ক্যান্সার।
দীর্ঘ দুই বছরে কেমোথেরাপি ও চিকিৎসার মাধ্যমে ফিদা কিছুটা সুস্থতার পথে এগোলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। পরিবারের সামান্য উপার্জন, আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ইতোমধ্যেই ব্যয় হয়েছে। এখন প্রতি মাসে ঢাকায় ৩ থেকে ৪ বার থেরাপি দিতে যেতে হয়। চিকিৎসার খরচ দাঁড়ায় মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু সাইকেল মেরামত করে চলা এই দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে এই ব্যয় বহন করা আর সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবেশীরা জানান, এতদিন আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় কোনোভাবে চিকিৎসা চালালেও এখন তাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফিদার বাবা-মা দিনরাত চোখের পানি ফেলেন, কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা যেন বারবার থমকে যায়। চিকিৎসা না হলে হয়তো অকালেই ঝরে যাবে ছোট্ট ফিদার জীবন।
মানবিক মানুষ, সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু হৃদয়ের মানুষজন যদি এগিয়ে আসেন, তবে হয়তো ফিদা আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে। অন্য বাচ্চাদের মতো দৌঁড়াতে পারবে, হাসতে পারবে, স্কুলে যেতে পারবে। এই মর্মস্পর্শী পরিস্থিতিতে সবার কাছে আকুল আবেদন ফিদার পরিবারের। মানবিক সাহায্যই পারে আবার ফিরিয়ে দিতে এই ছোট্ট শিশুর হাসি, বাঁচিয়ে রাখতে একটি নিষ্পাপ প্রাণ। ফিদার জীবন রক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
হানিফ/নাঈম/