ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও এক ধাপ বেড়ে গেল। এবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রসুলকে বহিষ্কার করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘আমাদের মহান দেশে তাকে আর স্বাগত জানানো হবে না’।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা অস্বাভাবিক একটি বিষয়। যদিও নিম্নপদস্থ কূটনীতিকদের দেশটিতে মাঝেমাঝেই ব্যক্তিগতভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রসুলকে আমেরিকা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশের অভিযোগ করেছেন। এছাড়া রুবিও ইব্রাহিমকে ‘বর্ণবাদী রাজনীতিবিদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের আলোচনা করার কিছু নেই।’
এই পদক্ষেপটি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সর্বশেষ ঘটনা। শুক্রবার ( ১৪ মার্চ) রুবিও তার পোস্টে ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টের একটি প্রতিবেদনের লিংক যুক্ত করেন। সেখানে একটি অনলাইন বক্তৃতায় ট্রাম্প প্রশাসন সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিমের কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়।
সেখানে ইব্রাহিম বলেন, ‘দেশে ও বিদেশে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদকে সংগঠিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যা শুরু করছেন, তা হলো ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ।’
এর জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইব্রাহিমকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় সহায়তা স্থগিতের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘জঘন্য কর্মকাণ্ড’ হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের (যারা ডাচ বসতি স্থাপনকারীদের বংশধর) বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে জাতিগত বৈষম্য’ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি নতুন আইন এক্সপ্রোপ্রিয়েট অ্যাক্টের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আদেশে দাবি করা হয়, সরকারকে ব্যক্তিগত জমি কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়ে এই আইনে শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের টার্গেট করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বমঞ্চে খারাপ ব্যক্তিদের সমর্থন করবে এবং নিরীহ সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু কৃষকদের ওপর সহিংস আক্রমণের অনুমতি দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে সাহায্য-সহায়তা বন্ধ রাখবে।’
শনিবার ( ১৫ মার্চ) রয়টার্স জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার তাদের আইনটির সঙ্গে জাতিগত বিষয়ের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছে।
রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালে তিনি আবারও এই পদে নিযুক্ত হন। সূত্র: রয়টার্স
দিনা/অমিয়/