শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে অবস্থানরত আরেকটি ইরানি জাহাজের নাবিকদের ‘জীবন রক্ষার’ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে (ফ্রিগেট) মার্কিন হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং বহু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার মুখপাত্র নলিন্দ জয়তিসা বলেন, ‘‘আমরা জীবন বাঁচানোর জন্য আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’’ তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে’ অবস্থান করছে।
মাঝসমুদ্রে মার্কিন হামলা
গতকাল বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ছুড়ে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এখন ভারত মহাসাগরেও ছড়িয়ে পড়ছে—এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়।
জয়তিসা জানান, দ্বিতীয় ইরানি যুদ্ধজাহাজটিতে ১০০-এর বেশি ক্রু রয়েছেন এবং এটি সেই এলাকার দিকেই যাচ্ছে যেখানে প্রথম জাহাজটি ধ্বংস করা হয়েছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই জাহাজটিও একইভাবে হামলার শিকার হতে পারে।
আল জাজিরা জানায়, এই জাহাজগুলো ভারত থেকে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া শেষ করে ফিরছিল। দ্বিতীয় জাহাজটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কথা জানিয়ে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং বন্দরে ভেড়ার অনুমতি চেয়েছে। যদিও এখনো অনুমতি দেওয়া হয়নি, তবে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধের সর্বশেষ জানতে পড়ুন: ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলীয় শহর গালে-তে মার্কিন হামলায় নিহত ৮৭ জন ইরানি নাবিকের মরদেহ হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। গাল প্রধান হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ৩২ জন ইরানি নাগরিককে পুলিশ ও কমান্ডো বাহিনীর কঠোর পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সাধারণের জন্য বন্ধ করে ইরানিদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। একজন নার্স জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরে হাড়ভাঙা এবং পোড়া ক্ষত রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সম্পত জানিয়েছেন, নিখোঁজ ইরানি নাবিকদের সন্ধানে তাদের জাহাজগুলো এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি: ‘আমেরিকা তিক্তভাবে অনুশোচনা করবে’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena) ডুবে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে ২,০০০ মাইল দূরে মাঝসমুদ্রে এই নৃশংসতা চালিয়েছে। ১৩০ জন নাবিক নিয়ে ভারতের অতিথি হিসেবে আসা ‘ডেনা’ ফ্রিগেটটিকে কোনো সতর্কতা ছাড়াই আক্রমণ করা হয়েছে। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন: আমেরিকা এই ঘটনার জন্য তিক্তভাবে অনুশোচনা করবে।’’
এদিকে, ইরানি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজি) এর কমান্ডার জেনারেল কিউমার্স হায়দারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেখানেই আমেরিকানদের পাব, সেখানেই লড়াই করব। এই যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’’
পারস্য উপসাগরে মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলা
বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আইআরজি দাবি করেছে যে তারা পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে একটি মার্কিন তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে গেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুদ্ধকালীন এই সময়ে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত এখন সম্পূর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা