আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে তেহরান। তাদের দাবি, ফুটবল দলের ব্যাকরুম স্টাফদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের উদ্বোধনী ম্যাচের ১০ দিন আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সব খেলোয়াড় এবং ‘প্রয়োজনীয় সহযোগী স্টাফদের’ ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, 'মিথ্যা অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করানোর জন্য ইরানকে এই সুযোগ অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।'
তুরস্কে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে 'খেলাধুলায় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ' বলে নিন্দা জানায়।
দূতাবাস জানায়, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সহসভাপতিসহ ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কঠোর ভিসা শর্তের কারণে ইরানি দলকে কেবল ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং ম্যাচ শেষেই দেশ ছাড়তে হবে।
এই আচরণকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানায় ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপটি একটি বিরল ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে আতিথেয়তা দিচ্ছে, যাদের সঙ্গে তারা বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই বিষয়টি বেশ জটিল রূপ নেয়, কারণ ইরানি স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী এই বাহিনীর অধীনেই বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা সম্পন্ন করতে হয়েছে।
এদিকে ইরানি দলটি ইতোমধ্যেই তুরস্কের প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যেখানে টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারা অবস্থান করবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্বোধনী ম্যাচ ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ইরানের।
অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র: বিবিসি
আজহার/অমিয়/