লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তিনি লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে আলোচনার সময় ওই মন্তব্য করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তেহরান ‘সব সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে শত্রুদের বাধ্য করার চেষ্টা করছে।’
গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ঘালিবাফ। তবে সে আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। ইরান ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, ইরান যুদ্ধের যেকোনো যুদ্ধবিরতি লেবাননেও প্রযোজ্য হতে হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়।
ঘালিবাফ আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের লেবাননি ভাইদের কখনো ভুলিনি, তাদের আমরা নিজেদের অংশ মনে করি।’ বিবৃতিতে বলা হয়, এ সময় বেরি লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ লেবানিজ নাগরিক এই সংঘাতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বেরির বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ইসরায়েল আমাদের দেশে সরাসরি অপরাধ করছে এবং লেবাননের জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল)-এর সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ লেবাননের জনগণের স্বার্থে নয়’ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইরানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
২ মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার পর লেবানন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইসরায়েলের হাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ওই হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের নভেম্বরে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে।
এরপর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদিকে বুধবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা ৩৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কথা বলবেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবারের সময়সীমা জানান। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হলেও লেবানন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
একই সময় পাকিস্তান জানিয়েছে, লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘লেবাননে শান্তি (ইরান) আলোচনার জন্য অপরিহার্য।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, গত বুধবার রাতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা লেবাননে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠক করেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ‘একটু স্বস্তির সুযোগ’ তৈরি করতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘৩৪ বছর পর দুই নেতা কথা বলবেন, এটি ভালো খবর।’
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য গিলা গামিলিয়েল জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বহু বছর পর প্রথমবারের মতো লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে কথা বলবেন।
তবে লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এমন কোনো ফোনালাপের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য নেই। নেতানিয়াহু ও আউনের মধ্যে যোগাযোগ হলে তা দুই দেশের সম্পর্কে একটি বড় মাইলফলক হবে, কারণ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লেবানন ও ইসরায়েল কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের যোগাযোগের বিরোধিতা করে আসছে।
যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনারের সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে জোসেফ আউন বলেন, লেবাননের দাবি করা যুদ্ধবিরতিই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ‘স্বাভাবিক সূচনা’ হতে পারে। তবে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার কোনো পরিকল্পনার উল্লেখ করেননি।
লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। সরকার দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীটির নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা করছে। গত ২ মার্চ বৈরুত হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স