ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি
Nagad desktop

খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার বার্তা নিয়ে আবারও ফিরে আসছে ‘এল নিনো’। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে এই আসন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের আগে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ ও নভেম্বরের আগে এই সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।

তবে বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের পটভূমিতে এবার এল নিনো আবির্ভূত হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব আরও মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে এশিয়া মহাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি এই অঞ্চলের কৃষি, বিদ্যুৎ গ্রিড ও পানি সরবরাহের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

ভারতের জন্য ‘প্রাণঘাতী সংমিশ্রণ’ মূল শঙ্কা হচ্ছে, এল নিনো ভারতের চলমান তীব্র তাপপ্রবাহকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি আসন্ন মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দিতে পারে। জুন মাসে শুরু হতে যাওয়া বর্ষা মৌসুমে ইতোমধ্যে ‘স্বাভাবিকের চেয়ে কম’ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানিসংকটে থাকা ভারতের জন্য এটি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

যদি এল নিনোর কারণে বৃষ্টিপাত দেরিতে হয়, তবে তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘায়িত হবে। এতে সাধারণ মানুষের জীবিকা ব্যাহত হবে ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। বৃষ্টির ঘাটতি কৃষকদের জন্য বড় বিপর্যয় নিয়ে আসবে। মে মাসের তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যে গম ও সরিষা ফসলের ক্ষতি করেছে। এল নিনো খরা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ভারতীয় কৃষি বিশেষজ্ঞ ও অ্যাক্টিভিস্ট দেবিন্দর শর্মা জলবায়ুর গতিপ্রকৃতি অনুসরণ করা প্রতিষ্ঠান ‘কার্বন কপি’কে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৬ সাল ভারতের জন্য একটি পরীক্ষা ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে।’

‘চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ শঙ্কা তৈরি করছে। আমরা এল নিনো আসছে বলে মনে করছি, যার প্রভাব জুলাই বা আগস্টে দৃশ্যমান হবে। এটি ভারতের জন্য, বিশেষ করে ভারতের কৃষির জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।’

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ভারতের কৃষকরা ইতোমধ্যে সারসংকটের শঙ্কায় রয়েছেন। এ ছাড়া এল নিনোর প্রভাব পড়তে পারে ভারতের মুম্বাই শহরের ওপর। মুম্বাইয়ের ২২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের পানির একমাত্র উৎস সাতটি বৃষ্টিনির্ভর হ্রদ। বর্তমানে এই হ্রদগুলোতে মাত্র ৪৫ দিনের পানি অবশিষ্ট রয়েছে। বর্ষা সময়মতো না এলে মুম্বাই বড় ধরনের পানির সংকটে পড়বে।

চীনের বিভিন্ন অংশে জরুরি রসদ মজুতের ডাক। চীনে গ্রীষ্মকালে সাধারণত বন্যা ও খরা উভয় পরিস্থিতিই দেখা যায়। জলবায়ুসংকটের কারণে এই দুর্যোগগুলো আরও তীব্র হয়েছে ও বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এল নিনোর কারণে চলতি বছর এই চ্যালেঞ্জ আরও বড় হবে। দেশটির জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্র জানিয়েছে, শরৎ ও শীতকালে এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এর ফলে দক্ষিণ চীনে বৃষ্টিপাত বাড়বে ও সারা দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু অংশে বৃষ্টিপাত গড় পরিমাণের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি হতে পারে।

তিব্বত মালভূমিতে অবস্থিত উত্তর-পশ্চিম চীনের উঁচু প্রদেশ ছিংহাইয়ের আবহাওয়া ব্যুরো সতর্ক করেছে, এল নিনোর প্রভাব এই মালভূমিতে ‘অপ্রত্যাশিত ও চরম’ হবে। ব্যুরো আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বাড়িতে জরুরি রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর ও জটিল’ বলে উল্লেখ করেছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। হুবেই প্রদেশসহ দেশের কিছু অংশে ইতোমধ্যে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য এক ‘স্ট্রেস টেস্ট’।মালয়েশিয়া সাবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক অধ্যাপক জাস্টিন সেনটিয়ান জানান, একটি শক্তিশালী এল নিনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও বায়ুদূষণ তৈরি করতে পারে। সাধারণত শক্তিশালী বাতাস পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে উষ্ণ পানি নিয়ে আসে, যা এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়। তিনি বলেন, ‘তবে এই বাতাস যখন দুর্বল বা উল্টো হয়ে যায়, তখন সেই উষ্ণ পানির প্রবাহ পূর্ব দিকে সরে যায়। এটি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বায়ুমণ্ডলীয় আর্দ্রতা থেকে বঞ্চিত করে।’ এর ফলে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, যা জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলবে, বিদ্যুৎ গ্রিডকে বিপর্যস্ত করবে ও পানির মজুত দ্রুত কমিয়ে দেবে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ভিজিটিং প্রফেসর ও বোস্টন কলেজের অধ্যাপক মিং ই জানান, কৃষি ও জলবিদ্যুৎশিল্প সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে জ্বালানি ও সারের ঘাটতি রয়েছে, যার কারণে তারা দূষিত জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

গ্লোবাল হিট হেলথ ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সাউথইস্ট এশিয়া হাবের চেয়ার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জেসন লি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এল নিনোর প্রত্যাবর্তন কেবল একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়। এটি ইতোমধ্যে চাপে থাকা ব্যবস্থাগুলোর জন্য স্ট্রেস টেস্ট।’

অধ্যাপক জাস্টিন সেনটিয়ান সতর্ক করেছেন, শুষ্ক মাটি ধান ও পাম তেলের মতো প্রধান ফসলের ক্ষতি করতে পারে। এটি খাদ্য সংকট তৈরি করবে ও বাজারের দাম বাড়িয়ে দেবে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর পুষ্টির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় যেখানে পানির অবকাঠামো দুর্বল, সেখানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। সেনটিয়ান বলেন, ‘শহরগুলো যেখানে কেন্দ্রীভূত ইউটিলিটি গ্রিড দিয়ে চলে, সেখানে বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়গুলো প্রায়ই অগভীর কুয়া, প্রাকৃতিক নদী ও পাহাড়ের ঝরণার ওপর নির্ভর করে।’

‘এল নিনোর কারণে বাষ্পীভবন দ্রুত হলে এই ভঙ্গুর পানির উৎসগুলো অদৃশ্য হয়ে যেতে বাধ্য। শোধন প্ল্যান্ট না থাকায় পরিবারগুলোর কাছে নদীগর্ভ থেকে অনিরাপদ, জমে থাকা পানি সংগ্রহ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এটি কলেরার মতো পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দেয়।’
অধ্যাপক মিং ই আরও জানান, শক্তিশালী এল নিনো ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো ক্রান্তীয় রোগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

পর্যটন খাতও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানান সেনটিয়ান। ব্যাংকক থেকে দা নাং পর্যন্ত বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে দর্শনার্থীদের জন্য আউটডোর আকর্ষণ ও সৈকতগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এ ছাড়া সুমাত্রা ও কালিমান্তানের মতো জায়গায় কৃষিজমি ও পিটল্যান্ডে আগুন লাগতে পারে। এর ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ার মেঘ সিঙ্গাপুর এবং কুয়ালালামপুরের মতো আর্থিক ও ট্রানজিট হাবগুলোকে ঢেকে ফেলতে পারে।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের স্কুল অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের ডিন অধ্যাপক বেঞ্জামিন হর্টন বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। তিনি যোগ করেন, ‘যে বিষয়টি এই পর্বকে আমার কাছে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক করে তুলেছে তা হলো এটি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের পটভূমিতে উন্মোচিত হচ্ছে। আমরা এখন আর আলাদাভাবে এল নিনোকে মোকাবিলা করছি না।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

শনিবার (১৩ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য প্রকাশ করেন।

আলি খামেনি প্রায় ৩৭ বছর দেশ শাসন করেছেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত হন। 

জানা গেছে, তার জন্মস্থান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। শুরুতে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তিন দিনের জানাজা ও শোকানুষ্ঠান শুরু হবে এবং ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে আরেকটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় শোকানুষ্ঠানের প্রথম দিন ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে, যা এ বছর ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে।

খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি মার্চের শুরুতে তার উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা।

বাবাকে হত্যার যে হামলায় বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন, সেই হামলায় আহত হয়েছিলেন মোজতবা খামেনিও। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং তার নামে প্রকাশিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিবি

রিফাত/

২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে (ফ্রেমওয়ার্ক) পৌঁছেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

শনিবার (১৩ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেহবাজ শরিফ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মাসব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুই দেশ একটি শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় সম্মত হয়েছে। বর্তমানে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’

পাকিস্তান এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিফাত/

যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের আরও ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) জানায়, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলার মায়রাকেহ পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওই ব্যক্তি নিহত হন।

শুক্রবার (১২ জুন) দিনভর এবং রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত হলুদ রেখার (যে অংশটি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ ও দখল করতে চাইছে) উত্তরের শহর ও গ্রামগুলোতেও অনবরত বিমান হামলা চালায়।

শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা

এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যার ঠিক আগের দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা চূড়ান্ত চুক্তির জন্য কাজ করছেন।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এই প্রাথমিক চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হয়েছে।

তবে চলমান আলোচনা ও চুক্তির মাঝে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনায় ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়।

তাছাড়া, ইসরায়েলি নেতারা ইতোমধ্যেই সাফ জানিয়ে দেন, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ে লড়াই থামেনি। আগামী ২২ জুন দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/অমিয়/

আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত
সংগৃহীত

ভারতের আসামের জোরহাটের বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এএন-৩২ বিমানটি অবতরণের সময় বিমানঘাঁটির সীমানার ভেতরে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন লাগে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে জরুরি পরিসেবা দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

ভারতীয় বিমানবাহিনী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আরও তথ্য জানানো হবে।

এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিমানবাহিনী।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, জোরহাটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।

আন্তোনভ এএন-৩২ একটি মজবুত, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান পরিবহন বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত এ মডেলের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।

এএন-৩২ বিমানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। এটি বেশি উচ্চতার বিমানঘাঁটি ও উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতেও পরিচালনা করা যায়। বিমানটি ৭ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত মালামাল, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাট্রুপার পরিবহন করতে সক্ষম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে রসদ সরবরাহের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুই পাইলট নিহত হওয়ার কয়েক মাস পরই এই দুর্ঘটনা ঘটল। সূত্র: এনডিটিভি

আমান/অমিয়/

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত
ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার (১২ জুন) বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন কৃষক নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। 

কৃষি মৌসুম শুরুর পর কৃষকদের ওপর চলমান সহিংসতার সর্বশেষ ঘটনা এটি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা এ  তথ্য  জানিয়েছেন।

নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘জিহাদি গোষ্ঠী’ এবং ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এসব গোষ্ঠী মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও গবাদিপশু লুটসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এসব গোষ্ঠী এখানে প্রাণঘাতী হামলা চালায় এবং কৃষকদের নিজেদের জমিতে প্রবেশের জন্যও কর আরোপ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা নিজেদের সাধারণ দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরন নামায়ে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় জমিতে কাজ করা কৃষকদের ওপর গুলি চালায়। এতে ১৭ জন নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

মারাদুন জেলার রাজনৈতিক প্রশাসক সানুসি দোসারা বলেন, ‘আজ সকালে গোরন নামায়ে এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছে।’  

বাসিন্দা নুরা মুসা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামে হামলার সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ১৩ জন বন্দুকধারীকে হত্যা করেছিল। ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেও এই হামলা হতে পারে।

নাইজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বর্ষা মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তরাঞ্চলের বহু কৃষক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

আমান/