ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের এসব পদক্ষেপ দেশকে ‘দেউলিয়াত্বের দিকে’ ঠেলে দিচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রতি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা তার অন্যতম প্রধান কর্মসূচি বিনামূল্যের খাবার বিতরণ প্রকল্প বাতিলেরও আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। কয়েক মাস ধরে সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় এই বিক্ষোভ হয়। দেশটির মুদ্রা রুপিয়ার মানও সম্প্রতি নতুন সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আর আমাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পাচ্ছেন? বলা হয়, সংবিধান বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আজ আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না।’
বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিখ্যাত হোটেল ইন্দোনেশিয়া মোড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ঢাল নিয়ে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও লাথি মারার ঘটনাও ঘটে। কিছু বস্তু আকাশে ছুড়ে মারতেও দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা ‘মেনুজু ইন্দোনেশিয়া বাংক্রুট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া ইন্দোনেশিয়ার পথে’।
গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভেরও এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এই নতুন আন্দোলন শুরু হলো। সে সময় এক পণ্যবাহী মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্য ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। সূত্র: বিবিসি