সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা লিটন কুমার চৌধুরীকে তার বসত ঘর থেকে তুলে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। আসাদ নামের স্থানীয় সমন্বয়ক পরিচয়ধারী এক যুবক ও তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে লিটন কুমার চৌধুরীক পেটানোর এই অভিযোগ উঠছে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আসাদ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রেসার গ্রুপ নামে পরিচিত। সম্প্রতি তার নামে চাঁদাবাজির মামলাও করেছেন এক ভুক্তভোগী। হামলার শিকার সাংবাদিক এর আগে দৈনিক প্রথম আলো, আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও দৈনিক আজাদীতে কাজ করেছিলেন।
আহত সাংবাদিক জানান, রবিবার রাত ৯টার দিকে আসাদ ও তার কয়েকজন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে সীতাকুণ্ড কলেজ রোড় রেল গেইটসংলগ্ন ভবন থেকে জিম্মি করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রেমতলা নামকস্থানে । সেখানে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে জখম করা হয়। এ সময় তার পকেটে থাকা ৪৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তারা তাকে মারতে মারতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় নিয়ে যায়। এ সময় আসাদ ও তার সদস্যরা ওই আহত সাংবাদিককে সীতাকুণ্ড থানায় নিয়ে পুলিশকে গ্রেপ্তার করতে বলে। কিন্তু পুলিশ তাদের জানিয়ে দেয় তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। পরে পুলিশের একটি টিম তাকে নিয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ সময় খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হেদায়েত উল্লাহ নেতৃত্বে প্রেসক্লাব নেতারা হাসপাতালে যায়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফর করেন।
ঘটনার পর ‘সীতাকুণ্ড সম্মিলিত নাগরিক কমিটি’ নামে একটি ফেসবুক পেইজে আপলোড দেওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আসাদ ও তার প্রেসার গ্রুপের সদস্যরা ওই সাংবাদিকে পিটিয়ে পিটিয়ে বলছে, 'তুই আওয়ামী লীগের দোসর, তুই সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা। তোকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রেস ক্লাব পুনরায় দখলের করেলি কেন?। তুই আওয়ামী লীগের দোসর তোকেসহ কোনো সাংবাদিককে ছাড় দেওয়া হবে না।'
এ ছাড়া এই গ্রুপের অপর সদস্যরা সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক কালেকণ্ঠ ও দৈনিক পূর্বকোণের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি সৌমিত্র চক্রবর্তীকে গত বুধবার সীতাকুণ্ড বাজারে হামলার চেষ্ঠা চালায়।
খবর পেয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করতে আসে দৈনিক ইত্তেফাকের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি দিদারুল হোসেন টুটু এবং দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ফোরকান আবু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম চৌধুরী মব সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী আসাদসহ বাহিনীর সদস্যদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, 'সাংবাদিক লিটনের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। কয়েকজন যুবক তাকে রক্তাক্ত করে থানায় নিয়ে এসেছিলেন। এরপর ওই সাংবাদিককে পুলিশ দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি।'
মুসলেহ উদ্দীন/সুমন/