ওমরাহ পালনের নামে সৌদি আরবে মানব পাচারের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসে ওমরাহ পালনে সৌদি আরব গিয়ে লাপাত্তা হন ৫৬৮ বাংলাদেশি। তবে মানব পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে তাদের পাঠানো দেশি-বিদেশি এজেন্সিগুলো। এতে ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে বাংলাদেশ। এদিকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফরিদুল হক বলছেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, পলাতক ৫৬৮ বাংলাদেশির মধ্যে ৫৩০ জন আল হুসাম নামে সৌদি আরবের একটি এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের পাঠিয়ে ছিল দুবাইভিত্তিক ইজিগো ট্রাভেল নামে একটি এজেন্সি। তবে বাংলাদেশ থেকে এদের যারা যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল এখনো তারা শনাক্ত হয়নি। এদিকে দুবাইয়ে ইজিগো ট্রাভেলের নামে মামলা করেছে সৌদি আরবের আল হুসাম এজেন্সি।
বাকি ৩৮ জন গিয়েছিল সৌদি আরবের রায়ান আল হুদা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এ ঘটনায় এজেন্সিকে সাড়ে ৯ লাখ রিয়াল জরিমানা করেছে সৌদি সরকার। এ ছাড়া স্থগিত হতে পারে তাদের লাইসেন্সও।
বাংলাদেশ হজ মিশনকে এক চিঠি দিয়ে সম্প্রতি রায়ান আল হুদা জানায়, এসব যাত্রী কক্সবাজারের গ্রিন ভিলেজ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি গেছেন। তবে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে গ্রিন ভিলেজ ট্রাভেল এজেন্সি।
এ প্রসঙ্গে মক্কার হজ কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘লোকাল অ্যাম্বেসি থেকে আমাদের ফোন করে জানিয়েছিল বিষয়টি। আমরা এজেন্সিগুলোর তালিকা দিতে বলেছি। আমরা তালিকা নিয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাব।’
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ফাঁসিয়ে এভাবে মানব পাচার করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আগে এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ করতে যেত যাত্রীরা। এখন সৌদি সরকার সরাসরি অনলাইনে ওমরাহ ভিসা দিচ্ছে। এখন ওমরাহ ভিসার জন্য ওমরাহ এজেন্সির প্রয়োজন হয় না।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বলছেন, রিক্রুটিং এজেন্সি সচেতনভাবে এই কাজটি করে আসছে। এতে করে একদিকে অভিবাসী কর্মীরা বিপদগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষের এক ধরনের নেতিবচাক মনোভাব তৈরি হচ্ছে।
জানা যায়, সৌদি আরবে গিয়ে অনেকে দেশটির প্রত্যন্ত এলাকায় চলে যান। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা কোনো কাজই পান না। জেল-জরিমানার মুখে পড়েন।