ঝিনাইদহের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যা মামলার প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি। এই মামলার প্রথম আসামি গ্রেপ্তারের ৮৭ দিনের মাথায় গত শনিবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত আদালতে প্রায় ১ হাজার ২০০ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
এদিকে আনারের দেহাবশেষ ফেলা হয়েছিল ভাঙড়ের কাছে বাগজোলা খালে। সেসব উদ্ধার করা হলেও সেগুলো আসলে আনারেরই কি না, তা এখনো জানা যায়নি। সিআইডি জানায়, এ জন্য আনারের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতির জন্য তারা এখনো কলকাতা আসতে পারেননি।
সিআইডি সূত্রের খবর, চার্জশিটে ‘কসাই’ জিহাদ হাওলাদার এবং মহম্মদ সিয়ামের নাম আছে। তবে কী উদ্দেশ্যে আনারকে খুন করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। তদন্তকারীদের একাংশের ব্যাখ্যা, তদন্ত শেষ না হলে খুনের কারণ বলা যাবে না। তা ছাড়া এই মামলায় মূল অভিযুক্তকে এখনো জেরা করা যায়নি।
গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ হন আনার। ১৮ মে বরাহনগর থানায় তিনি নিখোঁজ হয়েছেন বলে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং বরাহনগর থানা জানতে পারে, কলকাতার নিউ টাউনের একটি আবাসনে নিয়ে এসে আনারকে খুন করা হয়েছে। সিআইডি তদন্তভার নেওয়ার পরে ২২ মে জিহাদকে গ্রেপ্তার করে। পরে পাকড়াও করা হয় সিয়ামকে।
অন্যদিকে ঢাকা পুলিশ সে দেশে আমানুল্লা ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান, ফয়জল এবং মুস্তাফিজুরসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রান্তকারী আনারের বন্ধু আখতারুজ্জামান শাহিন পলাতক। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে আনার চেষ্টা করছে সিআইডি।