রাজধানীর বাংলা একাডেমির পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বইমেলা-২০২৫। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশকে বইমেলার জন্য বরাদ্দ দেবে না মর্মে চিঠি দিলে বইমেলার স্থান পরিবর্তন নিয়ে পাঠক ও প্রকাশকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে নবনিযুক্ত সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী বইপ্রেমীদের শঙ্কামুক্ত করেছেন।
বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও বইমেলার আয়োজন থাকবে।
১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ছোট একটি স্টল স্থাপন করে বই বিক্রি শুরু করে মুক্তধারা। ১৯৭৭ সালে মুক্তধারার সঙ্গে আরও অনেকে যোগ দেয়। সেই থেকে একুশে বইমেলার পরিসর বাড়ছে। ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বইমেলার সঙ্গে একাডেমিকে সম্পৃক্ত করেন। পরের বছর বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি মেলার সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে বইমেলার নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। ২০২১ সাল থেকে মেলার প্রাতিষ্ঠানিক নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে বইমেলা’।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১৪ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে মেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চলতি বছর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ ছিল বইমেলার জন্য।
করোনা মহামারির পর পূর্ত অধিদপ্তর ও বাংলা একাডেমির মধ্যে মেলার স্থান নিয়ে চিঠি চালাচালি হতে থাকে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করার নানা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কিছু কাজ শুরুর কথা শোনা যায়। বইমেলা পূর্বাচলের দিকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে গুঞ্জন রটে। তবে বইপ্রেমী পাঠক ও প্রকাশকদের আপত্তিতে বইমেলা স্থানান্তরিত হয়নি। সরকারের বিশেষ বিবেচনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই থেকে যায়।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম ও সচিব মোহাম্মদ নায়েব আলী বুধবার খবরের কাগজকে বলেন, ‘বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করতে বাংলা একাডেমির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে এ সংক্রান্ত আবেদনপত্র সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলবে বলে জানান তারা।’
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘বইমেলার স্থান বদলালে তার আবেদন থাকবে না। একাডেমির পাশাপাশি বইপ্রেমী মানুষও চান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার আয়োজন হোক।’