সাভারের আশুলিয়ায় জুলাই-আগস্ট অভুত্থানে নিহত চারজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার জন্য মরদেহগুলো উত্তোলন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ উদ্ধারের কথা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে আশুলিয়ার চারালপাড়া, পবনারটেক ও বগাবাড়ী আমবাগান এলাকা থেকে মরদেহগুলো উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাহী ম্যাজিট্রেট।
আশুলিয়ার চারালপাড়া কবরস্থান থেকে উত্তোলন হওয়া মরদেহটি হলো জাহিদুল ইসলাম সাগর ও পবনারটেক কবরস্থান থেকে আশরাফুল ইসলাম নামে আরেকজনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
এছাড়া আশুলিয়ার বগাবাড়ী আমবাগান কবরস্থানে দাফনকরা আবুল হোসেনসহ অজ্ঞাত আরেকজনের পরিচয় সনাক্তের জন্য দুপুরে তাদের মরদেহ উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু করে প্রশাসন।
এসময় আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তারের নেতৃত্বে থানা পুলিশের সদস্যরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
নিহত আবুল হোসেনের মা সালমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ৮-১০ বছর ধরে এই এলাকায় থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করত। ৫ আগস্ট আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তারপর তার লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও দেখে আমার ছেলেকে সনাক্ত করেছিলাম। পরে জানতে পারি, আশুলিয়ার আমবাগান কবরস্থানে দুইজনের লাশ অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে। সেই লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ টেস্ট করা হবে সে জন্য আজ আমরা পুলিশের সঙ্গে এখানে এসেছি।’
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন উর রশিদ জানান, জুলাই-আগস্টে নিহত দুইজনকে আমবাগান কবরস্থানে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতের গায়ের জার্সি দেখে তার পরিবার মরদেহটি আবুল হোসেনের বলে দাবি করেন। আজ আদালতের নির্দেশে ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারপর পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট ও ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে কোনটি আবুল হোসেনের মরদেহ তা সনাক্ত করা যাবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তার জানান, বিজ্ঞ আদালত ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এখানে মরদেহ উত্তোলনের পর সুরতহাল করা হবে এবং পরে ময়নাতদন্ত করা হবে। ভাদাইল ও চারালপাড়া এলাকায় দুটি কবরস্থান থেকে দুইজনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আমবাগান কবরস্থান থেকে আরও দুইজনের মরদেহ উত্তোলন করা হচ্ছে।
ইমতিয়াজ উল ইসলাম/মাহফুজ