পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ওপর কোনো চাপ বা প্রভাব থাকবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে ডিসিরা নির্ভয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে কাজ করার সুযোগ দেবে এ সরকার।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এবারের নির্বাচন একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে। কোনো দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার সুযোগ না থাকায় এবার ডিসিরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ মুহূর্তে পলিথিন বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। চাল কেনার বস্তা, পুরোনো শাড়ি দিয়ে ব্যাগ বানানো যায়। যুব মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাপড় ও চটের ব্যাগ বাজারে আনার চেষ্টা করছে সরকার।
খাল উদ্ধার-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারি জমি অনেকেই দখল করে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়েছে। আগামী বাজেটে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে একটি সুরক্ষা বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিসিদের কাছে জেলাগুলোতে কীভাবে নদী দখলমুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে তাদের সহায়তা চেয়েছি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান জানান, ‘টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবন দখলমুক্ত করতে সীমানা চিহ্নিত করে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ডিসিদের কাছ থেকে পাহাড়ের তালিকা নেওয়া হয়েছে। তাদের বলেছি পাহাড় কাটলে শ্রমিক নয়, মালিককে ধরতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরে লোকবল সংকট থাকায় ডিসিদের সহায়তা করতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারে ৫১ একর সংরক্ষিত বনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক করা হয়েছে। সেখানে পাহাড় কেটে ছোট করে ভবন করা হয়েছে। এই সংরক্ষিত বন ফেরত দিতে বলেছি। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী নিয়ে একটি মনিটরিং টিম করা হয়েছে তাদের বলা হয়েছে, এই সমস্যা সমাধানের জন্য।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনার কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পরিকল্পনাই তো নেই, কী বাস্তবায়ন হবে। চাইনিজ গ্রুপ একটা পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। চীন সরকার এটিকে টেকসই বলেনি। এ পরিকল্পনায় কী থাকবে, আর কী থাকবে না, তা তিস্তা পাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে মতামত নিয়ে করতে হবে, এমন ব্যবস্থা করতে ডিসিদের বলেছি।’