রাজধানীর ধামরাইয়ে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে আসিফ (২৮) ও শান্তা (২১) নামে স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কুমড়াইল মহল্লায় কুববাতের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী কুববাতের বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া।
দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা। আসিফ পেশায় একজন রিকশাচালক ও স্ত্রী শান্তা একটি গার্মেন্টসে শ্রমিকের কাজ করেন।
স্থানীয়দের কাছে থেকে জানা গেছে, রাত প্রায় ১২টার দিকে হঠাৎ কুববাতের বাড়িতে বিকট আওয়াজ শোনা যায়। পরে বাড়ির মালিক কুববাত ও স্থানীয়রা এসে দেখে বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে আগুন লেগে গেছে। পরে কক্ষটিতে থাকা দগ্ধ দম্পতিকে বের করে আনা হয়। তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে গেছে। স্থানীয়রা অনেক চেষ্টা করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছেন।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, বাড়িটিতে তিতাসের গ্যাস সংযোগ থাকলেও আসিফ ও শান্তা গ্যাস সংকট থাকার কারণে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতেন। সিলিন্ডারটি অক্ষত পাওয়া গেলেও গ্যাস পরিবাহী পাইপ পোড়া পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ও বাড়ির দেয়াল ভেঙে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রী দুজনই আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।
রজ্জব আলী নামে কুববাতের বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া বলেন, বিকট আওয়াজ শুনে আমরা এসে দেখি আগুন লেগেছে। তার পর অনেক কষ্ট করে আগুন নিভিয়ে আসিফ ও শান্তাকে বের করে আনা হয়। দেখি তাদের শরীরের অনেক জায়গা ঝলসে গেছে। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি কুববাতের বাড়ির একই কক্ষে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের গার্মেন্টসকর্মী মঞ্জুরুলসহ তার পরিবারের ৫ জন মারা যায়।
বাড়ির মালিক কুববাত আলী বলেন, আমি জানতাম না গ্যাস লাইনে সমস্যা আছে। গ্যাস বিস্ফোরণে নিচতলার ভাড়াটিয়া আসিফ ও শান্তার ক্ষতি হয়েছে। তারা দুইজনই ভাড়াটিয়া। তবে এর আগেও আপনার বাড়িতে একই ঘটনা ঘটেছিল, কিন্তু আপনি কেন কোনো ব্যবস্থা নেননি- এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
সজীব, সোহেলসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এসে দেখি ওই ভাড়াটিয়ার কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এর পর দরজা ভেঙে পোড়া অবস্থায় তাদের দুজনকে বের করে আনা হয়। তাদের মাথার চুল ও চামড়া ঝলসে গেছে।
ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি ঘরবাড়ি ভাঙা। তবে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীকে পাইনি। যতটুকু জানতে পেরেছি দগ্ধ দুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায়। তাদের স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়; পরে অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
মেহেদী/