জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) কার্যক্রম ইসিতে রাখার দাবিতে দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ‘স্ট্যান্ড ফর এনআইডি’ স্লোগানে বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
সারাদেশে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ও অফিসগুলোতেও বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
এতে আইডিয়া-২ প্রকল্পের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশ নেন। এর ফলে এনআইডিসহ সব ধরণের সেবা বন্ধ রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে ‘এক দুই তিন চার, এনআইডির পিছু ছাড়; ভোট চুরির ধান্ধা বন্ধ কর, এনআইডির পিছু ছাড়; ভোটার তালিকা ও এনআইডি একসূত্রে গাঁথা, বিভক্তি মানি না; এনআইডি রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, এটি ইসির অধিকার; ইসির অধীনে এনআইডি, জনগণের নিরাপত্তার গ্যারান্টি’ প্রভৃতি স্লোগান দিচ্ছেন। এগুলো প্ল্যাকার্ডেও লেখা রয়েছে।
গতকাল বুধবার (১২ মার্চ) গতকাল বুধবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মনির হোসেন।
এ সময় নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান, অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব মতিয়ুর রহমান, আশরাফ হোসেন, মো. হাসানুজ্জামান ও সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে লাগাতার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মনির হোসেন বলেন, ‘এনআইডি সেবা নির্বাচন কমিশন থেকে সরিয়ে আলাদা কমিশনে নেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছে, তা রুখে দিতে এই পদক্ষেপ। এর আগে গত ৬ মার্চ এনআইডি ইসির অধীনে রাখতে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। তাতে সরকার ও কমিশনকে প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে বুধবার (গতকাল) পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। কমিশন এতে একমত পোষণ করে ৯ তারিখ সরকারকে চিঠি দিয়েছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে আমরা ‘স্ট্যান্ড ফর এনআইডি’ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। এর মধ্যে কোনো সাড়া না পেলে পরে আমরা লাগাতার কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেব।’
ভোটার তালিকা ও এনআইডি একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনে রাখার পক্ষে ইসির আগের সংলাপগুলোতে অংশীজনরা মতামত দিয়েছেন।
এর আগে ২০২৩ সালে একটি আইন করে শুধু এনআইডি সেবা সুরক্ষা সেবা বিভাগে নেওয়ার চেষ্টা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যমান আইনটি বাতিল করে এনআইডি ইসির অধীনেই রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সম্প্রতি সরকার এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়।
এলিস/অমিয়/