ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৩ কিলোমিটার সড়কের অবস্থান কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। এ অংশের একাধিক স্থানে যানজট ছিল নিয়মিত চিত্র। ঈদের সময়ে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানজট বেড়ে দ্বিগুন থেকে ৩ গুন আকার ধারন করে। এর ফলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নিয়ে মহাসড়কে চলমান যাত্রীদের নেতিবাচক ধারনা ছিল।
গত ২২ মার্চ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, চৌদ্দগ্রাম সেনাক্যাম্প, হাইওয়ে পুলিশ, চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার অংশের ফুটপাত দখল উচ্ছেদ করা হয়। গত ২৩ মার্চ থেকেই পাল্টে গেছে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার অংশের চিত্র। মহাসড়কের নিয়মিত যানজট এখন আর দেখাই যায় না।
একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সড়কগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন যানচলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের জন্য সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে, যার ফলে বাজার এলাকায় চরম ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যবত্তি হিসেবে পরিচিত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যানজটমুক্ত হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছে পুরো বাংলাদেশের ঈদযাত্রায় ঘরমুখো লক্ষ লক্ষ মানুষ। সংশ্লিষ্টদের আশা, এবারের ঈদযাত্রা হবে সবচেয়ে স্বস্তির।
২৬শে মার্চ সরেজমিনে চৌদ্দগ্রাম বাজারে দেখা যায়, যানবাহন চলাচলকে সুষ্ঠু এবং নিয়ন্ত্রিত রাখার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশ। এদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এসব টিমের সদস্যরা ট্রাফিক আইন মেনে চলতে সকলকে সচেতন করছে এবং যানজট মুক্ত সড়ক ব্যবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার ফলে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশান্তি এবং ঈদ যাত্রার পথে ঝুঁকি কমেছে। বিশেষ করে বাড়ি পৌঁছানোর পথে কোনো ধরনের দেরি বা যানজটের সম্মুখীন হচ্ছেন না, ফলে তারা আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত।
উপজেলা সেনা ক্যাম্পের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং সড়কে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সেনাবাহিনী এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জামাল হোসেন বলেন, মহাসড়কে লাখো মানুষের ঈদযাত্রায় কোনভাবে যাতে প্রতিবন্ধকতা না হয় আমরা সে বিষয়ে বদ্ধপরিকর। চৌদ্দগ্রাম বাজারের যানজট নিরসনে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। মহাসড়কের নির্দিষ্ট স্থানে আন্তঃজেলা সার্ভিস চলাচলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিএনজি, অটোরিকশা, উল্টোপথে যানচলাচল একেবারেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ, চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশসহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের টিম কাজ করছে।
জহির শান্ত/সিফাত/