ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আনচেলত্তির জন্মদিন আর ব্রাজিলের জন্মদিন, কিছুতেই নেই নেইমার আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর শেরপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের মিলনমেলা ও আনন্দ র‍্যালি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ৬০ নিত্যপণ্যে করছাড় অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা স্টার সিনেপ্লেক্সে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা প্রেমে পড়েছেন প্রভা! শাহরুখ খানের শুটিং সেটে সুমাইয়া শিমুর ক্যারিয়ারের শুরু দর্শকদের প্রতি শুভকামনা থাকল ‘মালিক’ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন আরিফিন শুভ চুয়াডাঙ্গায় অপরিচ্ছন্নতা ও অবৈধ লোগো ব্যবহারে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ ডিসি অফিস চত্বরে হামলার শিকার সেই সমন্বয়ক মাহাদী ইউসিবির মূলধন দ্বিগুণ, ৪৩তম এজিএম সম্পন্ন কাশিয়ানীতে মোড়ের নাম রাখা হলো ‘ব্রাজিল মোড়’ গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম সংসদে বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু ভাঙ্গায় পরীক্ষাকেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মারধর, এনসিপি নেতা আটক জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটিতে আঘাতের দাবি ইরানি গার্ডের যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত ফিফার আপত্তির মুখে হাইতির বিশ্বকাপ জার্সিতে পরিবর্তন নতুন অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন শার্শায় সরকারি বাওড় জবরদখল, বিশুদ্ধ পানির সংকটে ৩ গ্রামের মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ে বছরে ১৯১ আত্মহত্যা, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে প্রবণতা বেশি
Nagad desktop

পুরোনো নামে ফিরছে চারুকলার শোভাযাত্রা, চলছে প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২০ এএম
পুরোনো নামে ফিরছে চারুকলার শোভাযাত্রা, চলছে প্রস্তুতি
পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতির জন্য কাজ করছে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের পটপরিবর্তনে এবারের চারুকলার বৈশাখের শোভাযাত্রাও ফিরছে তার পুরোনো নামে, আয়োজকরা বলছেন নামে পরিবর্তন না বরং পুরোনো নামে ফিরল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বর্ষবরণের শোভাযাত্রা। ১৯৮৯ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শুরু হয় বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা। তারই ৭ বছর পর, ৯৬ সালে নাম পরিবর্তন করে মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে নাম লাভ করে। নাম পরিবর্তনের ২৯ বছর পর ফের সেই পুরোনো নামে ফিরল আনন্দ শোভাযাত্রা।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকাল ১১টায় চারুকলা অনুষদের ওসমান জামান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে শোভাযাত্রা নামকরণের ঘোষণা দেন বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাপক এই আয়োজনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নামকরণ করা হয়েছে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা, যার ছায়াতলে দেশের সকল বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে। প্রতিফলিত হবে, বর্তমানের সব শ্রেণির মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা এবং ফুটে উঠবে শোভাযাত্রার প্রকৃত আনন্দ।’

মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে শোভাযাত্রা নামকরণের ঘোষণা দেন  চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ। ছবি: খবরের কাগজ

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম কেন পরিবর্তন করা হলো, এখানে ইসলামী দলগুলো বা কোনো চাপের প্রভাব রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘এখানে পরিবর্তনের প্রসঙ্গ নেই, আমরা পুনরুদ্ধার করেছে পুরোনো নাম। চাপের বিষয়টি আমরা সেভাবে মূল্যায়ন করতে চাইছি না, তবে প্রতিবছরই বর্ষবরণের এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্কের তৈরি হয়। গেল সময়গুলোতে মঙ্গল এমনভাবে ব্যবহার করেছে ফ্যাসিবাদীরা চর্চা করেছে এখানে একটা যথেষ্ট রকমের খারাপ অনুভূতি রয়েছে এই সমাজে। তাই, আমরা অতীতে ফিরে যেতে চাই যেখানে সকল মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল এবং সাংস্কৃতিক জায়গাতে কোনো রাজনৈতিক আগ্রাসন ছিল না।’

১৯৮৯ সালে যখন প্রথম শোভাযাত্রা বের করা হয়, সেই সময় চারুকলার শিক্ষার্থী ছিলেন এবারের শোভাযাত্রার উপকমিটির সদস্যসচিব ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান। তিনি বলেন, ‘তখন এরশাদের স্বৈরশাসন ছিল, সেই সময় আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে রাজনৈতিক এবং আমাদের ঐতিহ্য বিবেচনায় কিন্তু আনন্দ শোভাযাত্রা নাম দেওয়া হয়েছিল। তারপর ঠিক সেভাবেই চলছিল কিন্তু ৯৬ সালে এসেই সেই শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়ে গেল। আমাদের মঙ্গল নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না, কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু আনন্দ কেন বাদ দেওয়া হলো, তার ব্যাখা আমাদের জানা নেই। তাই আমরা আগের সেই জায়গাতে ফিরে যেতে চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘আমরা পুরোনো নাম ও ঐতিহ্যে ফিরে যাচ্ছি, যেটির মাধ্যমে চারুকলার এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। আনন্দ শোভাযাত্রায় এবার আমরা মূল যে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছি সেখানে আমরা দুটো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। একটি হলো, নির্বতনমূলক স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান এবং অন্যটি নির্বতনমূলক স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের যে অবস্থান। তা বিভিন্ন মোটিভেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রমুখ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শোভাযাত্রার সামনে থাকবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
শোভাযাত্রার সামনে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামনে থাকছে না এবং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা হুমকির কোনো তথ্য নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বরাবরই মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তবে তাদের সামনে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তারা র‍্যালির পাশে থাকবেন, তারাও তাদের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন।’

শোভাযাত্রার আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ঢাবি-শাহবাগ মেট্রোস্টেশন
শোভাযাত্রার আগ মুহুর্তে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহবাগ দুটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে। ঢাবি প্রক্টর বলেন, ‘ওইদিন সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মেট্রো শাহবাগ ও টিএসসি স্টেশন দুটি বন্ধ থাকবে। এখানে যাত্রী উঠবে না এবং নামবে না, তবে মেট্রো চলবে। শোভাযাত্রা শেষ হয়ে গেলে, স্টেশন দুটি খুলে যাবে।’

জোরেশোরে চলছে এবারের প্রস্তুতি, শেষ প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ

বাঙালির কৃষ্টিতে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ আর ঢাবি চারুকলার শোভাযাত্রা যেন বরাবরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রাতে আয়োজনের ব্যত্যয় ঘটেনি। চারুকলা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিন-রাত এক করে জোরেশোরে চালিয়ে নিচ্ছেন মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পর্বের কাজ। দৈনিক প্রায় ৩৫০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রতিকৃতিতে শিক্ষার্থীদের নানা দিকনির্দেশনায় চাটাই বুনছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। কেউবা আঠা দিয়ে চাটাইতে কাগজের আবরণ দিচ্ছে। এবারের শোভাযাত্রায় বড় মোটিফ থাকছে ৬টি, জুলাই বিপ্লবোত্তর এবারের শোভাযাত্রার স্লোগান ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। যার ফলে পুরো শোভাযাত্রায় থাকছে ফ্যাসিবাদের নীরব প্রতিবাদ। জানা যায়, ইলিশ মাছ, বাঘ, পালকি, পাখি, মুগ্ধের পানির বোতল, স্বৈরাচারী শাসকের প্রতিবাদে অশুভ প্রতীকী মুখোশ এবার মূল মোটিফ থাকছে।

ছবি: খবরের কাগজ

এছাড়া মাঝারি মোটিফ হিসেবে সুলতানি ও মুঘল আমলের মুখোশ, রঙিন চরকি, তালপাতার সেপাই, তুহিন পাখি, পাখা, ঘোড়া এবং লোকজ চিত্রাবলীর ক্যানভাস। এদিকে ছোট মোটিফ হিসেবে ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, বাঘের মাথা, পলো, মাছের চাই, মাথাল, লাঙল এবং মাছের ডোলা থাকছে।

কথা হয় চারুকলার অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী খাদিজাতুল নোমানীর সঙ্গে। ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেও কয়েকশ মাইল পাড়ি দিয়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে থেকে দেশে এসেছেন নোমানী। অনেক বছর পর এবার শুরু থেকেই জড়িত হয়েছেন শোভাযাত্রার প্রস্তুতির সঙ্গে। 

খাদিজাতুল নোমানী খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০১৮ সালে আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়। তারপর যে যার মতো করে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। গত বছর দেশের বাহির থেকে ছিলাম, যার ফলে শুধু বৈশাখে প্রোগ্রামেও আসা হয়েছিল। তাছাড়া এবার শুরুতে কমিটিতে থাকায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। এবারের প্রস্তুতিও রোজার মধ্যে শুরু হয়েছিল, শুরুতে একটু উপস্থিতি কম থাকলেও ৭ এপ্রিল ক্যাম্পাস পুরোদমে খুললে বৈশাখের প্রস্তুতিতে উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। এবারের শোভাযাত্রায় বেশ পরিবর্তনও এসেছে, বিশেষ করে বাঙালির ঐতিহ্য ৫টি পটচিত্র, সবমিলিয়ে এটি ১০০ ফিটের হবে। এছাড়া ২৮টি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর কালচারাল শো হবে এবং তারা শোভাযাত্রায় অংশ নেবে।’

২০০৬ সাল থেকে চলছিল বৈশাখের শোভাযাত্রার পুরো দায়িত্ব পেতে সিনিয়র ব্যাচ। এবার সেই রীতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘রোজা এবং ঈদের ছুটির কারণে এবার কিছুটা কমিউনিকেশন গ্যাপ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে এবং তারা এখন সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে।’

এদিকে প্রথম বর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্যা দাশ টুসি এমন বৈশাখের এমন কর্মযজ্ঞের সঙ্গে বেশ উৎফুল্ল। হাসিমাখা মুখে টুসি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি তো কখনো এটি করি, নিজের আর্ট-ওয়ার্ক করতে পারছি; এটি অনেক ভালো লাগার বিষয়। হয়ত বৈশাখের দিন সেগুলো হয়ত কেউ কিনতেও পারে। তাছাড়া একটি বিষয়, আমরা যে কাজগুলো করছি তুলির আঁচড়ে আজকে আমাদের মনে যেমন অবস্থা সেটি প্রকাশ পাচ্ছে, আবার আগামীকালের যে অনুভূতি সেটিও প্রকাশ পাচ্ছে সেইদিন আর্টে। সবমিলিয়ে একটা হৈ-হুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে আমাদের দিন পার হচ্ছে।’

পুরো আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তৈরি সরা, মুখোশ ও পেইটিং বিক্রি করে শোভাযাত্রার খরচ বহন করা হয়। এবছর দুটো পেইন্টিং করছেন প্রায় ৩৫ বছর আগে ক্যাম্পাস ছাড়া ষাটোর্ধ চারুকলার সাবেক শিক্ষার্থী এম আর দিদার। ভালোবাসার টান আর অতীতচারী হয়ে বৈশাখে দাওয়াত পেয়ে আসতে দুবার ভাবেননি বলে উল্লেখ করে দিদার বলেন, ‘এবার কাজ অনেক ভালোভাবেই এগোচ্ছে। এত বড় আন্দোলন পরবর্তী সময়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিল্পীরা অংশগ্রহণ করছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি অনুভব করি, আগে একটা গোষ্ঠী নিয়ে কাজ করা হতো। এবার ডিন সবাইকেই ডেকেছে, কল করেছে। যে আপনারা আসেন, সবাই এক হয়ে আনন্দ করি। আমি একটু দেরি করে এসেছি, আরও আর্টিস্টদেরকেও বলেছে, তারাও আসবে। কাজের গতিও বেশ ভালোই এগোচ্ছে। এবার দুটো পেইন্টিং করার টার্গেট রয়েছে।’

পটপরিবর্তনের বাংলাদেশের নতুন হতে যাওয়া শোভাযাত্রায় কোনো পরিবর্তন দেখছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনকার পার্থক্য একটাই দিনদিন এর পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে, একই সঙ্গে চারুকলার বিভাগগুলোর সংখ্যাও কলেবরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

এদিকে সার্বিক বিষয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা হয় বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখের সঙ্গে। 

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি বেশ জোরেশোরেই চলেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ আমাদের শেষ হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অ্যালামনাই আমাদের কর্মযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন। আমাদের কর্মযজ্ঞ শেষ সময় পর্যন্ত চলবে, ওই সময়ের মধ্যে যতটুক পারা যায় আমাদের কর্মযজ্ঞ চলবে।’

মঙ্গল শোভাযাত্রা নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান ছাত্র ইউনিয়নের
‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ করার সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। গতকাল শুক্রবার ছাত্র ইউনিয়ের দপ্তর সম্পাদক মঈন আহমেদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই বিষয়টি জানানো হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ বরণের শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনকে ফ্যাসিস্ট সাম্প্রদায়িক মবের নিকট অন্তবর্তীকালীন সরকারের অসহায় আত্মসমর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাগীব নাঈম ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তিত নামকে প্রত্যাখ্যান করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হিসেবেই সর্বত্র আখ্যায়িত করা হবে। যে কোনো পরিস্থিতিতে ফ্যাসিস্ট সাম্প্রদায়িক মবের অনুগত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রতিহত করা হবে।’

মাহফুজ/

 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে ইউজিসি। এ বাজেটে দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ইউজিসির জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বাজেটের মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ৪৩টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম পূর্ণ কমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়। সভার কার্যপত্র উপস্থাপন করেন ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। 

উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইউজিসি’র মূল বাজেটে ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে মোট ২২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেটে ১৯৪ কোটি টাকা এবং ইউজিসির বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির জন্য বরাদ্দকৃত মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯) বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় সভায় গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা কমিশনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে শিগগিরই একটি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষণা খাতের এ বরাদ্দ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সভাকে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গবেষণার অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব, গুণগত মান এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় এ বরাদ্দ অপ্রতুল। তবুও সমাজের প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলো চিহ্নিত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে অর্থ ব্যয় করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। ইউজিসির মূল লক্ষ্য দেশে গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণে মানসম্পন্ন গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্প্রসারণে উৎসাহিত করতে ইউজিসি গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে বরাদ্দ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মোঃ সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম ও প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন; পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান; জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন; চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. পেয়ার আহম্মেদ; খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুল আহসান; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডিন ক্যাটাগরি) প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী; সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডিন (প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ) প্রফেসর ড. মোঃ নিজাম উদ্দিন এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডিন ক্যাটাগরি) প্রফেসর ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান চৌধুরী; এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আলিফ রুদাবা পূর্ণ কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে ‘ধাপে ধাপে’ বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এ প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। 

এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অর্থ বিলে স্বাক্ষরের পর বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

ডা. শেখ মহিউদ্দিনের মালিকানাধীন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সংঘটিত ওই ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বাড়ানোর আবেদন করলে ৯ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়, ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে জবাব ও ব্যাখ্যা জমা দেয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। ফলে আইন অনুযায়ি হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি অবহিত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, র‍্যাব সদর দপ্তর ও রমনা থানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে সর্বশেষ এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

অমিয়/

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

সংসদে বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
সংসদে বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তাবিত এই বাজেট উত্থাপন করছেন তিনি।

এর আগে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় অর্থমন্ত্রীর হাতে ছিল কালো রঙের ব্রিফকেস। এই ব্রিফকেসে রয়েছে বিএনপি সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের কাগজপত্র ও অর্থ বিল।

বিকেল ৩টার কয়েক মিনিট আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় অর্থমন্ত্রীকে টেবিল চাপড়িয়ে স্বাগত জানান সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদের এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়।

আমান/

নতুন অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
নতুন অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। ছবি: পিএমও

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সকাল ১০টায় বৈঠক শুরু হয়।

দুপুর ১টার দিকে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।’ অর্থ বিলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরের পর আজ বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন।

তারেক রহমান সরকারের এটি সংসদে প্রথম বাজেট।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংসদ না থাকায় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় এবং সংশোধিত অর্থ অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় এবং জারি করার পর তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত বাংলাদেশের ভিন্ন বাস্তবতায় তখন সংসদের বাইরে ভিন্ন আঙ্গিকে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছিল।

গত ২ জুন অন্তবর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সংসদ না থাকায় তার বাজেট বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।