চট্টগ্রাম শহরের বড় বড় শোরুম, শপিংমলগুলোতে বিশালাকারের ডিজিটাল বিলবোর্ড প্রদর্শিত হচ্ছে অবৈধভাবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অনুমতি না নিয়ে এসব বিলবোর্ড স্থাপন করার কারণে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সংস্থাটি। ব্যাপক হারে অবৈধ বিলবোর্ড ছড়িয়ে পড়ার জন্য সংস্থাটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অনীহাকেই দুষছেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। রাজস্ব বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে লাইসেন্স বিভাগের কর কর্মকর্তা, উপকর কর্মকর্তা এবং পরিদর্শক রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে যারা এসব দেখার জন্য আছেন, তারা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। তারা যথাযথভাবে কাজ করলে করপোরেশনের রাজস্ব আদায় অনেক বেড়ে যেত। লাইসেন্স বিভাগের মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য। কর্তৃপক্ষ যখন তাদের যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা সেভাবে কাজ করেছেন।
চসিকের রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানি খবরের কাগজকে জানান, তিনি চসিকে এসেছেন বেশি দিন হয়নি। তবে সম্প্রতি তিনি বড় বড় শপিংমলে ডিজিটাল বিলবোর্ডের বিষয়টি খোঁজ নিতে গিয়েই জানতে পারেন সবগুলো অবৈধ। অথচ এসব বিষয়ে লাইসেন্স বিভাগের কর কর্মকর্তা, উপকর কর্মকর্তা এবং পরিদর্শকদের ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য থাকার কথা। তাদের উচিত ছিল প্রধান অফিসকে এসব অবহিত করা। তারা তা কখনো করেননি। তাই তিনি এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নিজেই এখন অবৈধ বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। তারা ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিলবোর্ডের খোঁজ পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে চসিকের জায়গায় বসানো বিলবোর্ড, পাঠানটুলি মোড়ে হাইসেন্সের বিলবোর্ড, লাকি প্লাজার দুটি বিলবোর্ড, আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের আগে ডিআইআইটির একটি বিলবোর্ড। এ ছাড়া লালখান বাজার মোড়ে আমিন সেন্টারে, কাজির দেউরি ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি সেন্টারসংলগ্ন শপিং ব্যাগের এবং জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজায় একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। এর বিপরীত পাশে ইউনেস্কো সিটি সেন্টারে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের বিলবোর্ড, এলিজি স্কাইপার্কে রয়েছে বাবুল্যান্ডের বিলবোর্ড এবং ফিনলে সাউথ সেন্টারের বিলবোর্ড। তাদের লাগানো বিলবোর্ড পরিমাপ করে বিল পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব ভবনে বিলবোর্ড বসালেও সিটি করপোরেশনকে প্রতি বর্গফুটে ১০ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়ে অনুমতি নিতে হবে। শহরের প্রধান সড়কে ইতোমধ্যে যে কয়েকটি অবৈধ বিলবোর্ড চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ রাজস্ব আদায় করতে পারলে অন্তত ৫ কোটি টাকা পাবে চসিক।
পুরো শহর ঘুরে অবৈধ বিলবোর্ড চিহ্নিত করে রাজস্ব আদায় করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সফলতার সঙ্গে সেটি করা গেলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাবে সিটি করপোরেশন।’
একই কথা বলেছেন চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল। তিনি জানান, সেন্ট্রাল প্লাজা যেসব বিলবোর্ড বসিয়েছে, যথাযথ হিসাব করলে তাদের কাছে চসিকের পাওনা ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। কিন্তু তাদের বক্তব্য হলো, এই টাকা অনেক বেশি। তারা বিষয়টি নিয়ে চসিক মেয়রের সঙ্গে আলাপও করেছেন। কিন্তু এরপর তারা অনুমতি না নিয়েই বিলবোর্ড চালু করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্য অবৈধ বিলবোর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিইসি মোড়ে র্যাংসের শোরুমের তিনটি বিলবোর্ডের জন্য ৮৫ লাখ টাকা বিল পাঠানো হয়েছে। তারা বিল কমানোর জন্য চেষ্টা তদবির করছেন। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডকে ২০ লাখ টাকা বিল পাঠিয়েছি। আমরা তৎপর হওয়ায় কেউ কেউ তাদের বিলবোর্ড কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।’ সাময়িকভাবে কাপড় দিয়ে ঢাকলেও কোনো কাজ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে বিল পৌঁছে যাবে।’