ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়
Nagad desktop

ড. ইউনূসের ৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি, বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বসংযোগ

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৫, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৮ মে ২০২৫, ০২:৫৬ পিএম
ড. ইউনূসের ৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি, বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বসংযোগ
ড. মুহাম্মদ ইউনূস

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক সুনামকে কাজে লাগিয়ে এ দেশের মসৃণ পরিবর্তনের গতিশীলতাকে সামলে যাচ্ছেন নিপুণভাবে। তিনি তার ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী কূটনীতি দিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে উন্মোচন করেছেন এক নতুন দিগন্ত। 

বিশ্লেষকরা একে বলছেন ‘৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি’, যেখানে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, সবদিকেই ছড়িয়েছে তার কূটনৈতিক উদ্যোগ। তারা বলেছেন, ঐতিহ্যগত মিত্রদের পাশাপাশি নতুন জোট গড়ে তোলা হচ্ছে। লক্ষ্য জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

প্রথম সাফল্য: সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ক্ষমা

অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য আসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিককে সাজার আদেশ দিয়েছিলেন দেশটির আদালত। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সরাসরি আলোচনার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

পশ্চিমা বিশ্বে দৃঢ় বার্তা

ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক কূটনীতিক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ড. ইউনূস। সেখানে তিনি তার দীর্ঘদিনের মিত্র সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয়েই সামাজিক ব্যবসা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পাকিস্তান, কানাডা ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী, ব্রাজিল ও মরিশাসের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে বৈঠক করেন। 

আন্তর্জাতিক সমর্থনের সূচনা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর

গত অক্টোবরের শুরুতে প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন। এটি বহির্বিশ্বে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেয়। গত বছরের ৪ অক্টোবর ৫৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় আসেন আনোয়ার ইব্রাহিম। দলটিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প, পররাষ্ট্র, পরিবহন এবং ধর্মবিষয়ক উপমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরাও ছিলেন। এর দুই মাস পর তিমুর লেস্তের প্রেসিডেন্ট রামোস-হোর্তা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করেন এবং বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। 

জলবায়ু কূটনীতিতে ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নের পক্ষে বৈশ্বিক কণ্ঠস্বর হিসেবে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। সম্মেলনে তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে একটি নতুন সাহসী বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ‘থ্রি জিরো’ নামে। তিনি ২০টিরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, বেলজিয়াম, ঘানার প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট। একই সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোবিষয়ক (এলডিসি) উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দেখা করেন। পরে ড. ইউনূস সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে, ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী লু আলকমিন এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ফিফাপ্রধানদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

ঢাকায় ইউনূসের সঙ্গে ইইউর ২৭ রাষ্ট্রদূতের ঐতিহাসিক বৈঠক

নজিরবিহীন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্যরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত একযোগে বৈঠক করেন। ঢাকায় যেখানে মাত্র সাতজন ইইউ রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত আছেন, সেখানে নয়াদিল্লি থেকে ২০ জন রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ আয়োজনটিতে ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করে।

দাভোসে উজ্জ্বল ইউনূস

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ছিল আরেকটি গৌরবময় অর্জন। সম্মেলনের পাশাপাশি অধ্যাপক ইউনূস সেখানে ৪৭টি আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় তিনি বৈঠক করেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং টিমর-লেস্টে, মালয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে। 

জাতিসংঘ মহাসচিবের ঢাকা সফর

চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৬ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফর করেন। গুতেরেসের সফরের মূল প্রেক্ষাপট ছিল রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক মানবিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে ‘সংহতি মিশন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার

এ বছরের ২৮ মার্চ বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তাকে সম্মান জানাতে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে নিজে অভ্যর্থনা জানান চীনা প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। দুই নেতার মধ্যে আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল নদী ব্যবস্থাপনা ও রোহিঙ্গা সংকট। ড. ইউনূস বাংলাদেশের জন্য একটি ৫০ বছরের সমন্বিত নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নে চীনের সহায়তা চান। 

বিমসটেকের নেতৃত্ব গ্রহণ

২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। 

বিমসটেক সম্মেলনে মোদি-ইউনূসের প্রথম বৈঠক

এটিই ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ। বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তার সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়টি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি গঙ্গা পানিচুক্তি নবায়ন ও তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে আলোচনার আহ্বান জানান। 

পাশাপাশি ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্মেলনের ফাঁকে ইউনূস শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হারিনিয়া আমারাসুরিয়া, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির পথে বাংলাদেশ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার লক্ষ্য বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে গঠনমূলক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বড় পরাশক্তিদের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীদারত্ব গড়ে তুলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়াতে চান অধ্যাপক ইউনূস। 

আরব বিশ্বের সঙ্গে সংলাপ

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সরকারি সফরে দোহা যান। সে সময় তিনি কাতারের কাছ থেকে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পান।

জাপানে কৌশলগত সফর

বাংলাদেশের বৈশ্বিক অংশীদারত্ব নতুনভাবে সাজানোর অংশ আজ বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে থাকবেন ড. ইউনূস। আগামী শুক্রবার তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা। এই সফরে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির পাশাপাশি ইউনূস অংশ নেবে ৩০তম নিক্কেই ফোরামেও। সেখানে তিনি লাওস ও পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট এবং জাপান ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। মূলত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফেরার ইঙ্গিত দেবে অধ্যাপক ইউনূসের এ সফরের মাধ্যমে।

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে দৃশ্যমান সাফল্য

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থনৈতিক কূটনীতির অন্যতম বড় সাফল্য ছিল এ বছর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এর সফল আয়োজন। এই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া বৈশ্বিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান, পুঁজিপতি ও উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীরাও এতে যোগ দেন।
(সংক্ষেপিত)
সূত্র : বাসস

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:১৯ এএম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এর তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।

 রবিবার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। 

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ ভূটানের পুনাখা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে।

মাটির ৩৫ কিলোমিটার তলদেশে হওয়া এই শক্তিশালী কম্পনের ফলে ভূটান ছাড়াও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল কেঁপে ওঠে।

প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, এই ভূমিকম্পের ফলে কম্পন অনুভূত হওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে- বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, ভূটান ও চীন।

মাঝরাতের এই আকস্মিক ঝাঁকুনিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে, এই ভূমিকম্পের কারণে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসএন/

নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে ট্রাফিক আইন ও নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে চলাচল করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডাম্পট্রাক। এতে সড়কে ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।

রবিবার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে বাংলামোটর এলাকায় দেখা যায়, ডিএসসিসির একটি ডাম্পট্রাক নির্ধারিত লেন ও সড়ক শৃঙ্খলা না মেনে এলোমেলোভাবে চলাচল করছে। ট্রাকটির এমন বেপরোয়া চলাচলের কারণে আশপাশের যানবাহনকে সতর্ক হয়ে চলতে হয়।

সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে রাতে ডাম্পট্রাকের বেপরোয়া গতি ও নিয়ম না মানার প্রবণতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

নগরবাসীর দাবি, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব যানবাহনকেও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

জয়ন্ত/রিফাত/

চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

চীন সরকারের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রবিবার (৭ জুন) রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি বেইজিং পৌঁছান। এর আগে দুপুরের দিকে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। বিএনপি মিডিয়া সেল এসব নিশ্চিত করেছে। 

মিডিয়া সেল জানায়, চীন যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুপুরে তথ্যমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে সফরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

মিডিয়া সেল আরও জানায়, সফরকালে তথ্যমন্ত্রী চায়না মিডিয়া গ্রুপের আয়োজনে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন অনুষ্ঠেয় ‘৫ম সিএমজি ফোরাম’-এ অংশ নেবেন। এ ছাড়া চীনের তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তথ্য বিনিময়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে নীতিগত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে তথ্য, প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে আশা করা হচ্ছে। 

ব্যাংক খাত সংস্কারের বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী 
ব্যাংক খাতের সংস্কার এখন সময়ের দাবি এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান।

রবিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরএফ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বলেন, গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। কিন্তু আয়নাটি যদি বিকৃত হয়, তাহলে প্রকৃত চিত্রও বিকৃতভাবে প্রতিফলিত হবে। তাই গণমাধ্যমকে নিজস্ব কাঠামোগত দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সঠিক, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উপস্থাপনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। 
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু তথ্য প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তথ্যের নির্ভুলতা, প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হয়। তবে তথ্য গোপন রাখাও কোনো সমাধান নয়। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় উপস্থিতি অপরিহার্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা থাকতে হবে, তবে সেই স্বাধীনতার ভিত্তি হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। গণমাধ্যমকে এমন পেশাগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, যাতে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে। গণমাধ্যমের জবাবদিহির একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা।

ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাশহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ।

কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক
ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গাকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে।

ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

ওসি মনিরুল বলেন, “আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। উন্নত জীবন যাপনের প্রলোভন দেখিয়ে লোকজন মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে জিম্মি করেন তিনি। জিম্মি করার পর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে থাকেন। 

পুলিশ জানায়, তাকে আটকের পর মানবপাচার সংক্রান্ত বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


তারেকুর রহমান/এসএন

ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১০ পিএম
ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
ছবি: খবরের কাগজ

চীন ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের মধ্যে সম্পর্ক, পেশাগত যোগাযোগ এবং তথ্য বিনিময় আরও জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং বাংলাদেশ-চীন আপন মিডিয়া ক্লাব। 

রবিবার (৭ জুন) রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ডিক্যাব-এর সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস এবং বাংলাদেশ-চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অলিভিয়া ছু।

ডিক্যাব-এর অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা খুব কাছ থেকে চীন সম্পর্কে জানতে পারছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিক্যাবের সদস্যরা চীন সরকারের আমন্ত্রণে চীন সফরও করেছেন। আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের গণমাধ্যম সহযোগিতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো। আশা করি, এর মাধ্যমে আগামীতে আরও বেশি সাংবাদিক চীন সফর করার সুযোগ পাবেন, যা দুই দেশের মানুষকে পরস্পরকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং মৈত্রী দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।’

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ডিক্যাব-এর সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আদান-প্রদানে এই চুক্তি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দুই দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এটি একটি দারুণ সুযোগ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, বাংলাদেশি সিনে-জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিজেএ) সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ, টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশের (টিএমজিবি) সভাপতি মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সভাপতি হাসান শরীফ, এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদ আনন্দ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ-চীন আপন মিডিয়া ক্লাব। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ডিক্যাব দীর্ঘ ২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুনাম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে আসছে।

রবিউল/রিফাত/