রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মো. ফয়সাল আহমেদকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় ফিরতে বলা হয়েছে। সেখানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দূতাবাসের রাজনৈতিক কাউন্সেলর মো. নিয়াজ মোর্শেদকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা দুটি চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সম্প্রতি সাবেক পররাষ্ট্রসচিব জসিম উদ্দিনের পদত্যাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়ামকে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ফয়সাল আহমেদ সরকারের নীতি ভঙ্গ করে ফেসবুকে একটি সমালোচনামূলক পোস্ট করেন।
সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হযবরল সেগুনবাগিচায় কে পররাষ্ট্রসচিব হবেন, নিশ্চিত নয়। একজন অতিরিক্ত সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ১০ জন সচিবকে ডিঙিয়ে কেন তড়িঘড়ি করে পররাষ্ট্রসচিব করা হচ্ছে বোধগম্য নয়। আসাদ আলম সিয়াম শেখ হাসিনার লয়ালিস্ট হিসেবে তিন বছর চিফ অব প্রটোকল ছিলেন। আওয়ামী লীগের ইন্টারেস্ট সার্ভ করার জন্যই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আসাদ আলম সিয়ামকে নির্বাচনকালীন পররাষ্ট্রসচিব করতে চান।’
এর আগে গত রবিবার মায়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মনোয়ার হোসেনকে অনতিবিলম্বে দায়িত্ব ত্যাগ করে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় মায়ানমারের সেনাশাসিত সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ঢাকায় কূটনৈতিকপত্র পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করে। এর পরপরই এ মাসেই ইয়াংগুনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিরক্ষা শাখায় কর্মরত প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আফতাব হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দেয় সরকার।