ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয় যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও নদী রক্ষায় ১০ হাজার কোটির বেশি টাকার মহাপরিকল্পনা আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয় মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তবতা প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি খরচ বাড়লে বিপাকে পড়বে সাধারণ জনগণ পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাঁশি হাতে থাকছেন ব্রাজিলের উইল্টন সাম্পাইও টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক নিউ ইয়র্কে বিশেষ সম্মাননা পেলে ও অঁরিকে নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমছে মুক্তিযোদ্ধাসহ যাদের ভাতা বাড়বে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত আনচেলত্তির জন্মদিন আর ব্রাজিলের জন্মদিন, কিছুতেই নেই নেইমার
Nagad desktop

ফেসবুকে মাহফুজ আলম মেটিকুলাস ডিজাইনে সমস্যা কোথায়?

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৮:১৪ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৮:১৭ এএম
মেটিকুলাস ডিজাইনে সমস্যা কোথায়?
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে মেটিকুলাস ডিজাইন করে আগরতলা ষড়যন্ত্র, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান আর ’৭১-এর মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন ও বাঙালি-বিহারি দাঙ্গা সঠিক হতে পারলে ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান মেটিকুলাস ডিজাইন হইলে সমস্যা কোথায়?

শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা আরও লেখেন, ‘দুনিয়ার কোনো অভ্যুত্থান বা বিপ্লব পরিকল্পনা না করে হয়েছে? জনগণের চৈতন্যকে ঐক্যবদ্ধ ও লক্ষ্যাভিমুখী রাখতে মেটিকুলাস ডিজাইনের বিকল্প নেই। যখন জনগণ নেতৃত্ব ও বক্তব্য পেয়ে যাবে এবং বিপ্লবের অবজেক্টিভ কন্ডিশন প্রস্তুত, তখন আর প্ল্যানের দরকার পড়ে না। কিন্তু তার আগে রাজনৈতিকভাবে জনগণকে প্রস্তুত এবং বিপ্লবী করে তোলা মেটিকুলাস ডিজাইন হলে সমস্যা কোথায়? সিরাজুল আলম খান, তাজউদ্দীন, সিরাজ শিকদার আর ভাসানী, এমনকি খোদ শেখ মুজিব যদি পাকিস্তানকে পরাজিত করতে মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ হয়ে পাপ বোধ না করেন এবং আমরা তাদের নিয়ে (তাদের ভুলসহই, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য) গর্বিত হতে পারি, তাহলে ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে মেটিকুলাস ডিজাইন করে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করলে কেন এ প্রজন্ম গর্বিত বোধ করবে না? 

৩ তারিখের ১ দফা ঘোষণার আগে জাতিসংঘের বক্তব্য ছাড়া বিদেশি শক্তি বা সামরিক বাহিনী কারোরই বিন্দুমাত্র অংশগ্রহণ ছিল না এ গণ-অভ্যুত্থানে। ভারতের সাথে ষড়যন্ত্র করে (যা ন্যায্য বলেই আমরা মনে করি) আগরতলা বৈঠক থেকে স্বাধীনতাসংগ্রামের জন্য শেখ মুজিব ও অন্যান্য জাতীয় নেতৃত্বের প্রতি যদি আমাদের শ্রদ্ধা থাকে, তাহলে কোনো বিদেশি শক্তি বা তৃতীয় শক্তির সাথে ষড়যন্ত্র কিংবা সলাপরামর্শ ছাড়াই জনগণের অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ফেলার জন্য অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ এবং অংশীজনকে কেন গালি শুনতে হবে?

পুনশ্চ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুটি অংশ। ৫ জুন থেকে ১৮ জুলাই। এ অংশে অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং নেতৃত্ব তৈরি করেছিল। আর ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সকল স্তরের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে এবং আত্মদানে অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। প্রথম অংশ অবশ্যই মেটিকুলাসলি ডিজাইনড। পরের অংশের কৃতিত্ব বিপ্লবী ছাত্র-জনতার। কিন্তু অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা এবং সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না থাকলে এ বিপ্লবী জনতা পরের অংশে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারত না। শুক্রবার দিবাগত রাত ২ আগস্টে এ অভ্যুত্থান বেহাত হয়ে সামরিক অভ্যুত্থানের দিকে মোড় নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তা ঠেকাতে পেরেছিল অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব। এ নির্দেশনা ও বক্তব্যের অবদানটুকু বাদে ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিদ্রোহ, প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ আর বিপ্লবী তৎপরতার কৃতিত্ব সকল স্তরের ছাত্র-জনতার। 

ওপরের এ ব্যাখ্যা মওলানা ভাসানীর ’৬৮ সালের ঘেরাও আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে দেখেন, অথবা ’৭১-এর মার্চ। আপনারা মেটিকুলাস ডিজাইনও বুঝতে পারবেন এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ, প্রতিরোধ আর বিপ্লবী তৎপরতারও হদিস পাবেন।’

জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে সংসদ সচিবালয় কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রায় ২৯১ কোটি টাকা) বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে পরিচালন (রাজস্ব) খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে এ বাজেট প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেও এটি সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৩২৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ কমে ২৩২ কোটি টাকায় নেমে আসে। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা, আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সহায়তা এবং অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণে এ বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও নতুন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এলিস/এসএন

বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনকে সামনে রেখে ইসিকে এ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। মোট বরাদ্দের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা খাতে ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭৫৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। ইসির বাজেট নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইসির সংশোধিত বরাদ্দ ছিলো ৪ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা; যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন সরকারের কাছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। মধ্যমেয়াদি বাজেট প্রাক্কলনে এ খাতে ২ হাজার ৮২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও অন্যান্য নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইসি প্রায় ৫ হাজার ৯২২ কোটি টাকা চেয়েছিল।

বাজেট নথি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংরক্ষণ, নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণ, সব ধরনের নির্বাচন ও উপনির্বাচন পরিচালনা, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন।

এবারের বাজেটে কমিশনের চারটি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ, নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার এবং প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সার্ভার, ডাটা সেন্টার ও নিজস্ব ভিপিএন নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ভোটার তথ্যভান্ডার হালনাগাদ, এনআইডি সেবা উন্নয়ন এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এলিস/এসএন

বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশের পর একে ‘গতানুগতিক ও অভিজ্ঞতাহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

দলটি বলছে, বাজেটে আশার কথা থাকলেও, তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সেই পুরোনো পথেই সীমাবদ্ধ, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হবে সাধারণ জনগণকেই।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতিতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘বাজেটে কথার চমক থাকলেও আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা সেই পুরোনো ধারায়। ধনীদের ওপর প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়েই বাজেটের টাকা জোগাড় করার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।’

বাসদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ধরা হয়েছে। এটি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ, ব্যাংক খাত এবং সঞ্চয়পত্র থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাজেটের সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে যা ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। দলটির মতে, এই বিপুল পরিমাণ ঋণের দায়ভার সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনগণের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখছে বাসদ।

বিগত অর্থ বছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া, ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে না পারা, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন থাকা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারার মতো ব্যর্থতাগুলোর কোনো পর্যালোচনা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে নেই বলে অভিযোগ করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
জ্বালানি খাতে দুর্নীতির চক্র না ভেঙে উল্টো গ্রাহকের কাঁধে বারবার দাম বাড়ানোর বোঝা চাপানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সরকারি তথ্যে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের বাস্তব অবস্থার সাথে মিলছে না। শ্রমিক ও কৃষকদের আয় বাড়েনি, অথচ উন্নয়নের মিথ্যে ফানুস ওড়ানো হচ্ছে।’

তিনি বাজেট অধিবেশনে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক খাতগুলোর প্রতিটি বিষয় ধরে সুনির্দিষ্ট আলোচনার দাবি জানান। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘ফাঁপা’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটি বলছে, দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো আশাবাদ নেই; উল্টো এই বাজেট বৈষম্যকে আরও তীব্র করবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার পরপরই এক বিবৃতিতে দলটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এই প্রতিক্রিয়া জানান।

সিপিবি নেতারা বলেন, প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই; যার পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ ঘাটতি মেটাতে সরকার নতুন করে আড়াই লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাজেটের এই অসারতাই প্রমাণ করে যে, এটি কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংখ্যার খেলা, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। সরকার বড় অঙ্কের বাজেট দেখিয়ে অর্থনীতির বাস্তব দুরবস্থা ও মানুষের কষ্ট থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেটের আকার জিডিপির ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ থাকলেও এবার তা কমে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ, বাজেট বড় দেখালেও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা আসলে বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছে।

সিপিবি নেতাদের অভিযোগ, আইএমএফ-এর শর্তে বন্দি সরকার করের জাল এমনভাবে বিস্তৃত করছে, যাতে কৃষক, শ্রমিক, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং ছোট ব্যবসায়ীরা নিষ্পেষিত হবে। অন্যদিকে, বড় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দের সমালোচনা না করলেও সরকারের বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছে দলটি। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত

জুন মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার(১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চীনকে বেছে নিয়েছেন। এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দুই দেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালের চীন সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করে।

ডেপুটি স্পিকার দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) কার্যকর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, ঋণের চাপ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদার করা প্রয়োজন।

ফোরামের ফাঁকে বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ এবং চামড়া শিল্পের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

চীনা নেতারা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার চীনা প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তারা তা সাদরে গ্রহণ করেন।

এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধি দল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এবারের মেলায় থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের ৮৪টি প্যাভিলিয়ন অংশগ্রহণ করছে।

এলিস/এসএন