ঢাকার উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের মরদেহ রাজশাহীতে দাফন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর বিকেল ৫টার দিকে নগরীর সপুরা কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এর আগে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তৌকির ইসলাম সাগরের মরদেহ রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩টা ২০ মিনিটে ক্যান্টনমেন্টের পাশেই নগরের উপশহরের ৩নং সেক্টরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া বাসায় তার মরদেহ নিয়ে যান সেনা ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা। এ সময় শত শত উৎসুক মানুষ বাড়ির সামনে ভিড় করেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। পরে সেখান থেকে মরদেহ জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে নিয়ে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত পাইলট তৌকির ইসলাম সাগরের বাবা তহুরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে। তবে ২৫ বছর ধরে তিনি রাজশাহী শহরে বসবাস করেন। তৌকির রাজশাহীর নিউ গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে পাবনা ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি ওই কলেজের ৩৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। ২০১৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পর ১টা ১৮ মিনিটে বিধ্বস্ত হয় বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমানটি। আছড়ে পড়ে রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরই ঘটে বিস্ফোরণ, মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে স্কুলের কয়েকটা কক্ষে। হতাহত হয় শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ ওই ভবনের অনেকে। এতে নিহত হন বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও।
মেহেদী/