পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থেই ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ছয় মাসের নোটিশে সরকার এ কার্যালয় প্রত্যাহার করতে পারবে। তবে আমি মনে করি, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।’
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই বছর পর এই চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের স্বার্থকে সামনে রেখেই এই পদক্ষেপ নিয়েছি। জাতিসংঘ প্রস্তাব দেওয়ার পর আমরা তৎক্ষণিক সই করিনি। সময় নিয়ে বিশ্লেষণ করে তবেই চুক্তি করেছি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে।’
ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ এ ধরনের প্রকল্প রোধ করতে পারবে না। তবে সতর্ক থাকবে যেন বড় ধরনের কোনো ক্ষতি না হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নদীগুলোর উৎস তো বাংলাদেশে না। তাই আমাদের দেখতে হবে এই প্রকল্পগুলো যেন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে বা খুব সীমিত প্রভাব ফেলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন যে, এ প্রকল্পগুলো পানি প্রত্যাহারের জন্য নয়। এতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পানিপ্রবাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে না। তাই এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্ক আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনা এখনো চলমান এবং চূড়ান্ত হয়নি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা আলোচনা করছেন, তাদেরই এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা উচিত। আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
ঢাকায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় ভারত থেকে আসা চিকিৎসক দলের উপস্থিতিকে কীভাবে দেখা হচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে কাজ করার সম্পর্ক চাই। আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসহায়তা দিতে ভারতের বার্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের একটি টিম গতকাল বুধবার রাতে ঢাকায় এসেছেন।