ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২
Nagad desktop

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কমিশনের আশাবাদ, জাতীয় স্বার্থে দলগুলো ঐকমত্যে আসবে

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫২ এএম
কমিশনের আশাবাদ, জাতীয় স্বার্থে দলগুলো ঐকমত্যে আসবে
ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর বাস্তবায়ন ও এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে দ্বিমত নেই কোনো রাজনৈতিক দলের। তবে কোন পদ্ধতিতে সেটি করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে দেড় মাস ধরে আলোচনার পরও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অন্যরা। 

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিকে যেকোনো মূল্যে প্রশ্নাতীত রাখার পক্ষে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া অথবা আইনি অন্য যেকোনো প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাবে দলটি। একাধিক সূত্র জানায়, আগামী সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্নে করার স্বার্থে জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্টে থাকা কয়েকটি ইস্যুতে কিছুট ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। তবে জুলাই সনদকে সংবিধানের ওপর স্থান দেওয়াকে কিছুতেই মেনে নেবে না তারা। অন্যদিকে এনডিএম ছাড়া সব দলই উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতির পক্ষে। তবে নিম্ন কক্ষে পিআর পদ্ধতি কখনো মেনে নেবে না বিএনপি। অন্যদিকে শুধু উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতির ব্যাপারে রাজি এনসিপি। তবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন উভয় কক্ষেই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে এখনো অনড়। তার পরও এই পর্যায়ে শেষ চেষ্টা হিসেবে ওই সব ইস্যু নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমানোর পাশাপাশি ঐকমত্যে পৌঁছাতে আগ্রহী বেশির ভাগ দল।

চলমান পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলগুলোর কাছে আইনসম্মত ও প্রয়োগযোগ্য সিদ্ধান্ত আশা করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া ৪ ধরনের বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবগুলো হলো- গণভোট, অধ্যাদেশ জারি, নির্বাহী আদেশ জারি এবং পরবর্তী সংসদের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ। এসব বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতি জানতে চাইলে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ খবরের কাগজকে জানান, দলগুলোর ওপর কমিশন কিছুই চাপিয়ে দেবে না। এ বিষয়ে আলোচ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বাস্তবসম্মত বিকল্পের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। সেই লক্ষ্যে আগামীতে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে কমিশন।

ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত সংকট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তারা জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও আইনি ভিত্তি নিয়ে দলগুলো একমত হতে না পারলে শেষ মুহূর্তে সরকারের ওপর দায়ভার ছেড়ে দেবে বিএনপি। এই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে পরবর্তী কোনো প্রশ্ন বা আদালতে রিট করার সুযোগ তারা রাখতে চান না। সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এর বাইরে অন্য কোনো আইনি পথ থাকলেও সেটিকে স্বাগত জানাবে বিএনপি। তবে জুলাই সনদকে সংবিধানের ওপর স্থান দেওয়া যাবে না, এটা সংবিধানের ধারায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদের নিম্ন কক্ষে পিআর পদ্ধতির বিষয়টি কখনো ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল না। আমরা উচ্চ ও নিম্ন কক্ষে সব জায়গায় পিআর পদ্ধতির বিপক্ষে। কিছু আসন পাওয়ার লোভে জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কেউ পিআর পদ্ধতি চাইলে ভয়ঙ্কর পরিণতি নিয়ে আসবে। নির্বাচনকে বিলম্বিত অথবা বাধাগ্রস্ত করতে এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশলকে এ দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। ঐকমত্যে কমিশনের বৈঠকে যেসব বিষয়ে সব দল একমত পোষণ করেছে সেগুলো সরকার নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে। আর যেসব বিষয়ে সংবিধান সংশোধন করতে হবে সেগুলো নিয়ে সংসদের ওপরই নির্ভরশীল থাকতে চায় বিএনপি। তবে সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলো এখনই বাস্তবায়নের কোনো বৈধ বা সাংবিধানিক উপায় যদি থাকে তাও মেনে নেবে বিএনপি।

দলটির অপর এক সূত্র জানায়, আগামী সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্নে করার স্বার্থে জুলাই সনদে কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। বিশেষ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’এর ৯টি প্রস্তাব নিয়ে এবারের আলোচনায় কয়েকটি বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এর মধ্যে সংসদে উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি (সংখ্যানুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব), রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি নিয়ে ছাড় দিতে পারে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি মেনে নিতে বিএনপির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

অপর দিকে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে অনড় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দল দুটির ভিন্ন মত। জামায়াতে ইসলামী বলছে, গণভোটের অথবা ‘প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার’ মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা। আর এনসিপি বলছে, গণপরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার আগামী সংসদ ছাড়া বাস্তবায়নের কোনো আইনি পথ নেই। সাংবিধানিক আদেশ জারি বা গণভোটের মতো প্রস্তাবগুলো অগ্রহণযোগ্য। এখনই এই সনদ কার্যকর হলে দেশে দুটি সংবিধান চলমান থাকবে। 

এদিকে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের জন্য ৩০টি রাজনৈতিক দলকে দুজন করে প্রতিনিধির নাম পাঠানোর অনুরোধ করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কিন্তু অনেক দল সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখে তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না। এ জন্য নির্ধারিত সময়ে ৩০টি দলের মধ্যে ১৭টি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতিনিধির নাম পাঠায়। আর নাম না পাঠানো দলগুলো যুক্তি দিয়ে বলেছে, ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে কপি পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে নোট অব ডিসেন্ট, আংশিক একমত, মতামত দেয়নি- এসব বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এসব নোট অব ডিসেন্ট থাকা বিষয়গুলোকে তো ঐকমত্য বলা যায় না। তাই সনদে স্বাক্ষরের জন্য নাম পাঠানো হয়নি। মূল ইস্যুগুলোতে ঐকমত্য হলে ও আদর্শিক বিষয়গুলো ঠিক থাকলে সনদ স্বাক্ষরের জন্য নাম পাঠানো হবে।

এর আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় গত রবিবার দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই দিন আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত কমিশনের মেয়াদ বাড়াতে দলগুলো অনুরোধ জানায়। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার কার্যকাল শেষ হওয়া ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।ছবি: সংগৃহীত

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দীর্ঘ এক ঘণ্টা হাত উঁচিয়ে ছিলাম, এরপর সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমার প্রশ্ন হলো, টাকা পাচারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না।’ 

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণ করা সহজ নয়।’ 

তিনি বলেন, ‘১৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন, কোন পণ্যের মাধ্যমে কত অর্থ পাচার হচ্ছে। এটি গবেষণা ও যাচাইয়ের বিষয়।’ 

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে সরকার।’ 

রিফাত/

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। ছবি: মাসুদ মিলন

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৮৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।
 
সোমবার (৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা  এক হাজার ৯২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ১০৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৩ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৭৭৯ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ হাজার ২৩৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৭৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রিফাত/

ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার আগে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী মে মাসের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে দেওয়া এক নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘জুন মাসের ৮ তারিখ পার হয়ে গেলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনো মে মাসের বেতন পাননি। ফলে ঈদুল আজহার মতো বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষকদের ঈদের আগে বেতন না পাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ গোষ্ঠী শিক্ষকদের বেতন প্রদানে বাধা সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সক্রিয় ওই গোষ্ঠীর সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বক্তব্যে তিনি শিক্ষকদের অধিকার ও কল্যাণে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আনা এবং পরবর্তীতে উৎসব ভাতা ও বেতন বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন সত্ত্বেও প্রতি মাসে সময়মতো বেতন পরিশোধে কেন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক গাফিলতি বা সমন্বয়হীনতার কারণে শিক্ষকদের বেতন আটকে থাকা দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।’

অবিলম্বে জটিলতা নিরসন করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দ্রুত পরিশোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংসদ সদস্য।

এলিস/রিফাত/

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিদ্যমান জাতীয় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার। একইসঙ্গে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

সংরক্ষিত নারী আসন-১০ এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) এবং ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার (এসওডি)’ প্রণয়ন করেছে।’

তিনি জানান, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এসব পরিকল্পনাকে আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে এসওডি সংশোধন এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন।

অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসন-২ এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রাণহানি কমাতে সরকার সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করছে। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আইভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

এ ছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার প্রচার ও মহড়ার আয়োজনের পাশাপাশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক ছাউনি-কাম বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এলিস/রিফাত/

দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের (UNEP) ২০২৪ সালের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উঠে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত এ সংখ্যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য অপচয়ের চিত্র তুলে ধরে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

লিখিত প্রশ্নে দেশে খাদ্য উৎপাদনের একটি বড় অংশ ময়লার ঝুড়িতে চলে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে খাদ্যের অপচয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয় এবং বিভিন্ন খাতে বিতরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হলেও আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য অপচয় ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা মোট খাদ্যশস্যের মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন বা শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যশস্যের অপচয় কমেছে বলে সংসদকে জানান তিনি।

খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয় রোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও উল্লেখ করেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী।

এলিস/নাঈম