সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গতকাল বিজয় দিবসের শ্রদ্ধা জানাতে এসে অনেকেই রীতিমতো নির্বাচনি মহড়া দিয়েছেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পুরো পর্বজুড়ে ছিল নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন। সেখানে ভোটের প্রচার চালিয়েছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার অনুসারীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকেন্দ্রিক আগাম প্রচার বন্ধ করতে ইসির নির্দেশ তারা আমলে নেননি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধের দুয়ার উন্মুক্ত হয় সর্বসাধারণের জন্য। এরপরই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়েন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার-আশুলিয়া) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কয়েক হাজার অনুসারী ভিড় জমান স্মৃতিসৌধে। তাদের হাতে বিপুলসংখ্যক ব্যানার ছিল, যেখানে লেখা ছিল ‘ধানের শীষে ভোট দিন’। এ সময় কর্মীরা তাদের নেতার নামে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’–এমন স্লোগানও শোনা যায়। তাদের মাথায় ছিল প্রার্থীর নামখচিত টুপি। স্থানীয় যুবদল কর্মী আরিফুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘বাবু ভাই নমিনেশন পেয়েছেন, তিনি জিতবেন। আমরা ভাইয়ের পক্ষ থেকে এসেছি।’
একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাওয়া মোহাম্মদ আইয়ুব খানের অনুসারীরাও নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দেন।
ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বড় মিছিলে নাজমুল হাসান অভির নামে ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যায় অনুসারীদের হাতে। তারাও নেতার নামে স্লোগান দেন।
স্মৃতিসৌধের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে শখানেক যুবককে জাতীয় নাগরিক পার্টির নামে স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এলে তাদের সঙ্গে তারা স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এর আগে তারা ‘সাভারের মাটি, এনসিপির ঘাঁটি’, ‘একাত্তর মরে না, চব্বিশ ছাড়ে না’সহ দলীয় প্রতীক শাপলা কলির নামে স্লোগান দেন।
গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনের কর্মীরা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর নামে স্লোগান না দিলেও নিজস্ব দলীয় প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। রাজনৈতিক দলের এমন আচরণে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন শ্রদ্ধা জানাতে আসা নাগরিকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান বলেন, ‘গোটা স্মৃতিসৌধ যেন রাজনৈতিক প্রচাররে মঞ্চ হয়ে উঠেছে। আজকের দিনের যে তাৎপর্য, তা নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের মাথাব্যথা ছিল না। শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েও তারা বিশৃঙ্খলা করেছেন।’
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর নির্বাচনকেন্দ্রিক আগাম প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে গত রবিবার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়। ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫’-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে থেকে ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার আগ পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার করা যাবে।
এই সময়সীমার বাইরে নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্নিত না করার কথা বলা হয়েছে। আচরণবিধির শর্ত প্রতিপালন করে জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের কথা বলা হয়েছে।