রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নামল আজ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে মাসব্যাপী মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৩০ তম আন্তজাতিক বাণিজ্য মেলায় সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ এসেছে ১৭ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এ আসরে স্থানীয়ভাবে পণ্য বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকার। এছাড়া টিকিট বিক্রিসহ সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায়।
এ সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, পণ্য উপস্থাপন, দর্শনার্থী সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ইনোভেশনের ভিত্তিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়।
৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পর্যন্ত। ৩০তম বাণিজ্য মেলার এ আসরে বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে ৩২৭টি স্টল বরাদ্ধ দেওয়া হয়।
এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করেছে। এ বছর মেলার প্রবেশমূল্য ধরা হয়ে বড়দের জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং শিশুদের ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধিগণ ও জুলাই আহতগণ তাদের কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশের সুযোগ ছিল।
মেলায় পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, কসমেটিক্স, হোম ডেকোরেশন, খেলনা, স্টেশনারিজ, হস্তশিল্প, প্লাস্টিক ও মেলামাইনসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হয়।
মেলার জরিপে নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শনে কারা অধিদপ্তর, জয়িতা ফাউন্ডেশন, বিসিক, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, জেডিপিসি, এপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস এবং বাংলাদেশ টি বোর্ডের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য বলে জানানো হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম ও হোম টেক্সটাইল খাত থেকে এসব সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিক্রি গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে।
এবারের মেলায় বৈরী আবহাওয়া ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাব ফেলেননি। সার্বিকভাবে ৩০তম আসর সফল বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।
রুবেল/মাহফুজ