গণভোটকে তরুণদের জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জীবনযাপনের লড়াইয়ের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তরুণদের প্রতি তিনি বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ কেবলমাত্র একটি দলিল নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের পথরেখা।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘গণভোট ২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোট এই সরকারের বিষয় নয়। গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের। আপনি-আমি কী ভূমিকা পালন করব, সেটা নির্ধারণের বিষয়। আপনি কোথায় আছেন, আমি কোথায় আছি, কোন প্রতিষ্ঠানে আছি, কোথায় কীভাবে আছি, সেটা বড় বিষয় নয়। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশকে যদি প্রকৃতপক্ষে পরিবর্তিত একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রতে পরিণত করতে চান, তাহলে আপনাকে-আমাকে এই ভূমিকা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের এই সুযোগ গত ৫৪ বছরে আসেনি। অনেক রক্তের মধ্য দিয়ে এসেছে। তাহলে এই দায়িত্বটা দায় হিসেবে বিবেচনা করুন এবং সেভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। যে তরুণরা প্রাণ দিয়েছেন, যাদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজকে এইখানে, আমি আপনি কথা বলতে পারছি। তাদের প্রতি যদি আমরা কোনো দায় এবং দায়িত্ব অনুভব করি, তাহলে আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করার কথা।’
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আপনি বাংলাদেশের মানুষকে জিজ্ঞাসা করুন, তারা ভোট দিতে চান কি না। বর্তমান এই ব্যবস্থা, এই সংবিধান, এই বিধান যদি থাকে আগামীতে এই একই অবস্থা হওয়ার আশঙ্কা আপনি বন্ধ করতে পারবেন না। যে কারণে জুলাই জাতীয় সনদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ভবিষ্যতে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন করতে হলে জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের সদস্যদের একত্রে নিয়ে বসে নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি তাতে কেবলমাত্র স্বাক্ষর দেবেন।’
আলী রীয়াজ বলেন, ক্ষমতাসীন আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যত বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত করা হয়েছিল। ক্ষমতাসীনরা লুট করে টাকা নিয়ে গেছে কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন কিচ্ছু করেনি। কারণ হচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় নিয়োগ করা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বলছে দুর্নীতি দমন কমিশন আসলে সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য তৈরি হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটকে শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না। যারা শহিদ হয়েছেন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের আত্মত্যাগের কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। গণভোটের বিজয় কোনো সরকারের বিজয় নয়, এটি এই দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের ভোট।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, “গণভোট না থাকলে ব্যক্তিগতভাবে আমার নির্বাচনে নিয়ে আগ্রহ থাকত না। আমি ভোট দিতে যাব প্রধানত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। কারণ আমি মনে করি, এটা রক্তের ঋণ।”
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, জুলাই আন্দোলনে শহিদদের পরিবার, আহত এবং সমন্বয়করা বক্তব্য দেন।